টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )ঢাকাঃ দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত এবং পলাতক সাবেক মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। এর প্রেক্ষিতে গত বছরের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে (কন্ট্রোল নম্বর: এ-৫৭৪/৪-২০২৫)।তিনি আরও জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল পুলিশ (এনসিবি আবুধাবি) একটি ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে নিশ্চিত করেছে যে, বেনজীর আহমেদকে সে দেশের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক আছেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, ইউএই ফেডারেল ল-এর ৩৯ (২০০৬) ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ বা এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট পাঠাতে হবে।বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডারের বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে।মন্ত্রী বলেন, এনসিবি ঢাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে। শীঘ্রই কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারকে আইনের শাসনের মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারছি। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন—এই বার্তাটি আমরা জাতিকে দিতে চাই।বিবৃতি চলাকালে সংসদে উপস্থিত সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে এই সংবাদকে স্বাগত জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সংসদ কক্ষজুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও এ সময় সন্তোষ প্রকাশ করেন।কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা আছে দুদকের।বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে থাকা জমি-ফ্ল্যাটসহ অনেক স্থাপনা আদালতের আদেশে ক্রোক (জব্দ) আছে। এছাড়া তাদের বিপুল অংকের সঞ্চয়পত্র, অনেক ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিরোধী নেতা-কর্মীদের দমন-পীড়নসহ র্যাবের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল। এজন্য ২০২১ সালে র্যাবের যে ছয় কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়, তাদের মধ্যে বেনজীরও ছিলেন।ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি-অনিয়ম, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠলে ২০২৪ সালের ৪ মে সপরিবার দেশ ছাড়েন বেনজীর।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইতে গ্রেপ্তার








