২ শত ২৩টি এফোরডেবল হোমস বা সাশ্রয়ী ভাড়ার বাড়িঘর দ্রুত সরবরাহে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল তার উন্নয়ন সহযোগী নির্মাণ কোম্পানি বার্কলের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির ফলে গ্রেটার লন্ডন অথরিটি (জিএলএ) এর অনুদানে বাড়িগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই হস্তান্তর করা হবে। সম্প্রতি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র, কাউন্সিলর মাইয়ুম তালুকদার প্রকল্পের দ্রুত অগ্রগতি দেখতে হিরন ওয়ার্ফ এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে ২০ একর রিজেনারেশন প্রকল্প গড়ে উঠছে।
নতুন এই ২ শত ২৩টি সোশ্যাল রেন্টেড ঘরগুলোর মধ্যে ১ শত ৬৮টি ঘর হবে ফ্যামিলি সাইজের, যা টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের বাসিন্দাদের চাহিদা পূরণ ও ওভারক্রাউডিং কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতির একটি অংশ হিসেবে কাজ করবে।
২০২১–২০২৬ সালের সাশ্রয়ী বাড়ি প্রকল্পের অংশ হিসেবে লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটস এবং গ্রেটার লন্ডন অথরিটি (জিএলএ) এতে অর্থায়ন করছে। বাড়িগুলোর নির্মাণ কাজ মূল সময়সূচির কয়েক বছর আগেই ২০২৯ সালে শেষ হবে।
ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাইয়ুম তালুকদার হিরন ওয়ার্ফ পরিদর্শনকালে প্রথম ধাপে নির্মিত ২ শত ১৯টি সাশ্রয়ী বাড়ির মধ্যে কিছু বাড়িতে বসবাসকারী বাসিন্দাদের সঙ্গেও দেখা করেন ।
উন্নয়ন সহযোগি ও বাসিন্দারা মিলে প্রকল্প এলাকার কেন্দ্রস্থলে লেভেন ব্যাংকস পার্ক পরিদর্শন করেন এবং হাউজিং সাইটের ইতিহাসকে ধরে রাখা এবং সম্মান জানানোর জন্য স্থাপিত ভাস্কর্যের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
২২ মিটার উচ্চতার এই স্থাপনা গ্যাসহোল্ডার ১-এর একটি অংশ, যা ১৮৭৬ সালে পপলার গ্যাসওয়ার্কস চালু থাকাকালীন নির্মিত হয়েছিল। এটি সাবধানে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, শেষবার ব্যবহৃত অবস্থায় যে নীল রঙে ছিল, সেই আকর্ষণীয় নীল রঙে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উপভোগের জন্য পার্কের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে।
হিরন ওয়ার্ফের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হলে সেখানে মোট ২ হাজার ৯ শ'টি অত্যাধুনিক টেনিউর-ব্লাইন্ড হোমস, ২ দশমিক ৫ একর নদীতীরবর্তী পার্ক এবং ৮০ হাজার বর্গফুটের বাণিজ্যিক ও কমিউনিটি স্পেস গড়ে উঠবে। যার মধ্যে থাকবে ফুড শপ, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে, জিম, শিশুদের নার্সারি এবং রিটেইল শপসহ বাসন্দিাদের জন্য নানা প্রয়োজনীয় সুবিধা।
টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটস দেশের সবচেয়ে বেশি আবাসন সংকটের মুখোমুখি বারাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই ধরনের পার্টনারশীপ আমাদের বাসিন্দাদের চাহিদা অনুযায়ী বাড়ি প্রদান করতে সহায়তা করবে।"
মেয়র আরও বলেন, “নতুন নির্মিত বাড়িগুলোর বেশিরভাগই ফ্যামিলি সাইজের। আমরা এই বাড়িগুলো সরবরাহের গতি বাড়াতে পেরেছি, ওভারক্রাউডিং কমিয়ে এনে নিরাপদ বাড়ি প্রয়োজন এমন বাসিন্দাদের সহায়তা করতে পেরেছি । লন্ডনের আবাসন সংকট মোকাবিলায় আমাদের প্রতিশ্রুতির উদাহরণ এটি। এই উন্নয়ন প্রকল্পটি শুধু বাড়িই দিচ্ছে না, সবুজ খোলা জায়গা ও স্থানীয় সুযোগ-সুবিধাসহ একটি সমৃদ্ধ কমিউিনিটি তৈরি করবে, যার সুফল স্থানীয় বাসিন্দারা বহু বছর ধরে উপভোগ করতে পারবেন।”
বার্কলে ক্যাপিটালের ডিভিশনাল ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর হ্যারি লুইস বলেন, “এই প্রকল্প চুক্তির ফলে শত শত স্থানীয় মানুষ নিরাপদ, মানসম্পন্ন বাড়ি পাবেন, যা তাদের পরিবারের প্রয়োজন পূরণ করে। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ও জিএলএ–র সক্রিয় ভূমিকার জন্য আমরা বাড়ি সরবরাহের গতি উল্লেখযোগ্যহারে বাড়াতে সক্ষম হয়েছি। যাতে রিজেনারেশন প্রকল্পের সুফল আরও দ্রুত হয়।”








