দীর্ঘমেয়াদি আবাসন প্রবৃদ্ধির অংশ হিসেবে ৫২ হাজার নতুন বাড়িঘর নির্মাণের রূপরেখা প্রকাশ করেছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। ফিউচার প্লেসেস কর্মসূচির অধীনে কিভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে তা গত ১০ মার্চ, মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি মালিকানাধীন জমি, কাউন্সিলের নিজস্ব আবাসন প্রকল্প এবং রিজেনারেশন সাইটগুলোকে একত্রে এনে বাজারমুখি একটি সমন্বিত উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। জাতীয় এবং লন্ডনজুড়ে আবাসন বৃদ্ধি ও সরবরাহে জোর দিয়ে বারায় বৃহৎ পরিসরে ঘরবাড়ি নির্মানের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।
প্ল্যানিং ও ডিজাইন কোম্পানী আরাপ-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে তৈরি রিপোর্ট অনুযায়ী, সাউথ পপলার ও বিলিংসগেটে সর্বোচ্চ ১০ হাজার বাড়ি, কাউন্সিল-মালিকানাধীন ৪০টিরও বেশি সাইটে ৩ হাজার ৩০০ বাড়ি এবং আগামী ছয় বছরে কাউন্সিল সরাসরি ১ হাজার ১০০ নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব প্রকল্পে দ্রুত অগ্রগতি আনতে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদার খোঁজা হচ্ছে।
এই পাইপলাইন তথা পরিকল্পনাটি, লন্ডনের অন্যতম শক্তিশালী আবাসন ডেলিভারি রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ২০১১ সাল থেকে টাওয়ার হ্যামলেটস ৩৮ হাজারের বেশি বাড়িঘর সরবরাহ করেছে। লন্ডনের যে কোনো বারা কাউন্সিলের তুলনায় তা অনেক বেশি। শুধুমাত্র গত বছরেই ৯ হাজারের বেশি নতুন বাড়ির অনুমোদন দিয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও টাওয়ার হ্যামলেটস বৃটেনের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক আউটপুট সৃষ্টিকারী বারা। আর্থিক ও পেশাদার সেবা খাতে প্রতিবছর যোগ করছে ১১ বিলিয়ন পাউন্ড। টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় কর্মরত ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশী মানুষ। স্বাস্থ্য, গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকাকে। হোয়াইটচ্যাপেলে ৮'শ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগে বার্টস লাইফ সায়েন্সেস ক্লাস্টার গড়ে উঠছে। যেখানে ৫ হাজারেরও বেশী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে পূর্ব লন্ডন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবনী করিডোর হিসেবে গড়ে উঠবে।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “ বারাজুড়ে বিনিয়োগের বড় সুযোগ উন্মুক্ত করে আমরা টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করছি। সরকারি মালিকানাধীন বৃহৎ সাইটগুলোর সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমাদের রয়েছে জমি, উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা এবং দ্রুত কাজ করার অভিজ্ঞতা। আমরা বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত এমন অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত যারা দ্রুত ও মানসম্মত বাড়িঘর ডেলিভারি দিতে বদ্ধপরিকর।"
মেয়র আরো বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটস লন্ডনের আবাসন সংকট সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ২০১৩ সাল থেকে লন্ডনের অন্য যেকোনো বারার তুলনায় আমরা বেশি বাড়িঘর তৈরি করেছি। সাশ্রয়ী ও সামাজিক ভাড়ার আরও হাজার হাজার ঘরবাড়ি নির্মাণের অন্যতম উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। একসাথে বসবাসের জায়গা, চাকরি এবং উদ্ভাবনের সুযোগ যেমন, লন্ডন এবং বৃটেনের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে, পাশাপাশি আমাদের স্থানীয় কমিউনিটির জন্য স্থায়ী সুফল বয়ে আনবে।”
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের চিফ এক্সিকিউটিভ স্টিভ হোলসি বলেন, “ফিউচার প্লেসেস একটি স্পষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য পাইপলাইন পরিকল্পনা। আমাদের রয়েছে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন জমি, উন্নত পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়নের রেকর্ড এবং প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার জন্য সিনিয়র সক্ষমতা। আমাদের অগ্রাধিকার হলো বিনিয়োগের নিশ্চয়তা ও অংশীদারিত্ব, একক যোগাযোগ পয়েন্ট, ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে পরিকল্পনা ও ক্ষমতার সক্রিয় ব্যবহার। আমরা এমন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত যারা দ্রুত কাজ বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে চায়।
ফিউচার প্লেসে চিহ্নিত আটটি প্রধান এলাকা হলো:
সাউথ পপলার ও আইল অব ডগস:
বারার সবচেয়ে বড় আবাসন উন্নয়নের সুযোগ, যেখানে সাউথ পপলার মাস্টারপ্ল্যান এলাকার পাবলিক নিয়ন্ত্রিত সাইটজুড়ে বিলিংসগেট মার্কেটসহ প্রায় ১০ হাজার নতুন ঘরবাড়ি নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে। এটি জোন ২ এর একটি বিরল মাস্টারপ্ল্যান, যা পপলারকে ক্যানারি ওয়ার্ফের সাথে যুক্ত করে একটি নতুন নেইবারহুড গড়ে তুলতে পারে এবং উল্লেখযোগ্য আবাসন ও কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত ফ্লোরস্পেস উন্মুক্ত করবে।
ক্যানারি ওয়ার্ফ:
একটি বৈশ্বিক আর্থিক কেন্দ্র, যা দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং লন্ডনের অফিস ডেভেলপমেন্ট পাইপলাইনের একটি উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র। উড ওয়ার্ফে ৩ হাজার ৫০০টিরও বেশি নতুন বাড়ি নির্মাণাধীন, আর নর্থ কোয়েতে ইউরোপের বৃহত্তম লাইফ সায়েন্সেস ল্যাবরেটরির নির্মাণ কাজ চলছে। সেখানে বাণিজ্যিক, আবাসিক, পুনর্গঠন এবং উচ্চ-অবকাঠামো ভবন উন্নয়নে অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
হোয়াইটচ্যাপেল:
৮০০ মিলিয়ন পাউন্ড নিশ্চিত বিনিয়োগের মাধ্যমে বার্টস লাইফ সায়েন্সেস ক্লাস্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা ৫ হাজারেরও বেশি চাকরি সৃষ্টি করবে। হোয়াইটচ্যাপেল নর্থ এবং সাউথ-এর ড্রাফট লোকাল প্ল্যানে আগামী ১০–১৫ বছরে হাজার হাজার নতুন বাড়িঘর এবং উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক উন্নয়নের সক্ষমতার জানান দিচ্ছে। এলিজাবেথ লাইন সংযোগ এবং পাবলিক উন্নয়ন এই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ব্রিকলেন ও বাংলাটাউন:
বারার সবচেয়ে প্রাণবন্ত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এলাকা। যেখানে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও নানা উদ্যোগের এক অনন্য মিশ্রণের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। লোকাল প্ল্যান অনুযায়ী ব্রিকলেন এবং পেডলি স্ট্রিটে ২০ হেক্টর এলাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যেখানে আবাসিক, রিটেইল বিজনেস, কর্মস্থল এবং কমিউনিটি ব্যবহারের জন্য সুযোগ তৈরি হবে। এটি নকশা-নির্ভর রিজেনারেশন প্রকল্প, যা নতুন বাড়ি ও চাকরির ক্ষেত্র উন্মুক্ত করবে। পাশাপাশি পর্যটন অর্থনীতি শক্তিশালী করবে, সৃজনশীল শিল্পকে সুরক্ষা দেবে এবং এসএমই ও স্থানীয় ব্যবসাকে এগিয়ে নেবে।
শর্ডিচ ও অলগেইট:
সিটির বাণিজ্যিক কেন্দ্রের পূর্বমুখী সম্প্রসারণের মাধ্যমে আর্থিক ও পেশাদার সেবা খাতে বারায় ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশী চাকরির সুযোগ সৃস্টি করবে। এই এলাকাটি লন্ডনের সবচেয়ে গতিশীল ডিজিটাল ও সৃজনশীল অর্থনীতি হাব হয়ে উঠবে। এখানে উল্লেখযোগ্য মিশ্র-ব্যবহারযোগ্য এবং উচ্চ-ভবনের সম্ভাবনা রয়েছে। এলাকাটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নতুন বাণিজ্যিক পরিকল্পনার জন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে।
হ্যাকনি উইক ও ফিশ আইল্যান্ড:
একটি দ্রুত পরিবর্তনশীল, সৃজনশীল ও শিল্প এলাকা। যেখানে ক্রিয়েটিভ এন্টারপ্রাইজ জোন প্রতিষ্ঠার পর সৃজনশীল খাতে ৬৪ শতাংশ চাকরির বৃদ্ধি পেয়েছে। বো গুডস ইয়ার্ডে প্রধান রেল ফ্রেইট, শিল্প ও লজিস্টিকস খাতে ৫ হাজারেরও বেশি চাকরির সুযোগসহ আবাসন উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী কর্মস্থল তৈরির আরও সুযোগ তৈরি করবে।
লী-সাইড:
পপলার রিভারসাইড অপোরচুনিটি এরিয়ার একটি অংশ, যেখানে লন্ডনের বৃহত্তম আবাসনের সুযোগ রয়েছে।এই বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ৪০ হাজারেরও বেশী বাড়িঘর নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, এস্টেট রিজেনারেশন শিল্প অবকাটামো বাড়ানো এবং এলাকাটি মিশ্র-ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন সেতু ও অবকাঠামো উন্নয়ন এলাকাটিতে সংযোগ সৃষ্টি করবে।
সেন্ট্রাল টাওয়ার হ্যামলেটস:
বেথনাল গ্রিন, মাইল এন্ড এবং বো’র মতো প্রাণবন্ত টাউন সেন্টারজুড়ে সুপরিকল্পিত অবকাটামো সক্ষমতা রয়েছে। কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি এবং রিজেন্টস ভিউ'র মতো পুরস্কারপ্রাপ্ত স্কিম দ্বারা সমৃদ্ধ এই এলাকা আবাসিক উন্নয়ন, এস্টেট রিজেনারেশ এবং টাউন সেন্টার উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে, যা স্থানীয় কমিউনিটিকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে আবাসন সরবরাহও বৃদ্ধি হবে।
কাউন্সিল জানিয়েছে, সরকারি মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ও তাদের শক্তিশালী ডেলিভারি রেকর্ড টাওয়ার হ্যামলেটসকে লন্ডনের অন্যতম সক্রিয় প্রবৃদ্ধির অথরিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
সম্পূর্ণ ফিউচার প্লেসেস প্রস্পেক্টাস দেখুন: www.lovetowerhamlets.com/investors








