টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )ইরান: ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়ে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তেহরানের ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ বা ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত ৩৫টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে যেসব ব্যাংক ইরানের কাছ থেকে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের জন্য ‘টোল’ বা মাশুল আদায়কারী চীনা শোধনাগারগুলোর সঙ্গে লেনদেন করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় (ওএফএসি) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কয়েক হাজার কোটি ডলারের লেনদেনে সহায়তা করে আসছিল। ওয়াশিংটনের দাবি, এই অর্থ তেহরান তাদের সামরিক কার্যক্রম ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তায় ব্যয় করে।মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের এই গোপন ব্যাংকিং ব্যবস্থা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আসা অর্থ মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা উসকে দিতে এবং বিশ্ব বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে, তাদের ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।বিশেষভাবে চীনের শানডং প্রদেশের স্বতন্ত্র ‘টিপট’ শোধনাগারগুলোর বিষয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই শোধনাগারগুলো ইরানি তেল আমদানির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের জন্য ইরান সরকারকে মাশুল দিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। অন্যদিকে, চীন সবসময়ই এ ধরনের একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে।উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ইরানি ব্যক্তি, জাহাজ ও বিমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তেহরানের সঙ্গে চলমান দুই মাসের যুদ্ধের অচলাবস্থা নিরসনে যখন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, ঠিক তখনই এই বড় পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার বিষয়টি যুদ্ধের অবসান না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ইরানের ৩৫ ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা








