বাংলাদেশ ০৯ এপ্রিল ২০২৬

সংসদে সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬ পাস

post

টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )ঢাকাঃ  জাতীয় সংসদ আজ ‘সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ পাস করেছে। এর মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের জন্য গঠিত একটি নির্দিষ্ট সংস্থা প্রতিষ্ঠাকারী ‘সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিল করা হয়েছে।আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বিলটি উত্থাপন ও পাসের প্রস্তাব করেন। বিলটিতে অধ্যাদেশের অধীনে ইতোমধ্যে গৃহীত কার্যক্রমগুলোকে আইনগত সুরক্ষা দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি অন্তর্বর্তী সরকার বিচার বিভাগের কার্যক্রম দ্রুততর করা এবং উচ্চ আদালতে বিচারকের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে জারি করেছিল। ওই অধ্যাদেশের আওতায় সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়।নতুন বিলের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, পূর্বের অধ্যাদেশের মাধ্যমে ‘জুডিসিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠন করে শূন্যপদ পূরণে সহায়তা করা হলেও, এখন একটি স্থায়ী আইনি কাঠামো প্রয়োজন। বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত বিধানগুলো আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার জন্য সাংবিধানিক সংস্কার কমিটির মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ তৈরিতেই এ অধ্যাদেশ বাতিল করা হচ্ছে।আইনগত জটিলতা এড়ানো এবং বিচারিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিলে ‘সেভিংস অ্যান্ড কাস্টডি’ ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের অধীনে করা সকল নিয়োগ, গৃহীত পদক্ষেপ এবং চলমান কার্যক্রম বৈধ ও কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হবে।বিলটির বিরোধিতা করে এনসিপি’র সংসদ সদস্য আখতার হোসেন (রংপুর-৪) এটিকে বাতিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি এটিকে একটি ‘সুন্দর আইন’ উল্লেখ করে বলেন, এটি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছিল এবং আগের ব্যবস্থায় নির্বাহী বিভাগ বিচার বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখত।জবাবে আইন মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে তিনি নীতিগতভাবে একমত হলেও, সরকার সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী ও স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পূর্বে অধ্যাদেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের আইনজীবী হিসেবে তিনি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘তখন আমি সরকারের পক্ষে কথা বলেছি। এখন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারের নীতি হচ্ছে বিচারক নিয়োগে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।’তিনি বিচারক নিয়োগের মানদণ্ড নির্ধারণে সাংবিধানিক সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটিতে যোগ দিতে বিরোধী দলকে আহ্বান জানান।মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বিচার বিভাগ স্বাধীন ও স্বকীয়তায় পরিপূর্ণ হোক। বাংলাদেশে আর কোনো ‘রাজনৈতিক’ বিচারক তৈরি হোক, তা আমরা চাই না। বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যবস্থার কোথায় সমস্যা আছে, তা খুঁজে বের করতে হবে।পরে কণ্ঠভোটে আখতার হোসেনের আপত্তি নাকচ করা হয় এবং বিলটি পাস হয়।এই বিল পাসের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, এক সাবেক বিচারক সম্পর্কে বিরোধী সদস্যের ব্যবহৃত কিছু অবমাননাকর শব্দ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner