কমিউনিটি ১৩ মার্চ ২০২৬

মাদার্স ডে উপলক্ষে কলাম্বিয়া রোড ফুল বাজারে প্রদর্শিত হবে স্কুল-শিশুদের ডিজাইন করা বিশেষ তোড়া মোড়ানোর কাগজ

post

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উদ্যোগে আয়োজিত লাভ কলাম্বিয়া রোড স্কুল ডিজাইন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া স্থানীয় স্কুল শিশুদের আঁকা শিল্পকর্ম এবার মাদার্স ডে-তে কলাম্বিয়া রোড ফ্লাওয়ার মার্কেটে বিক্রি হওয়া তোড়া মোড়ানোর কাগজে ব্যবহার করা হবে। বাজারের প্রাণবন্ত সংস্কৃতি ও লাভ টাওয়ার হ্যামলেটস প্রচারণাকে সমর্থন করতেই এই অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ভার্জিনিয়া প্রাইমারি স্কুলের দুই শিক্ষার্থী - ১১ বছর বয়সী রেচেল পেরেইরা ও ১০ বছর বয়সী জাকি উদ্দিন - প্রতিযোগিতায় যথাক্রমে বিজয়ী ও রানার-আপ নির্বাচিত হয়েছে। তারা দু’জনেই স্কুলের ষষ্ঠ বর্ষের শিক্ষার্থী।

এই মাসের শুরুতে স্কুলের পূর্ণাঙ্গ সমাবেশে বিজয়ীদের সার্টিফিকেট ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। রেচেল পেয়েছে সার্টিফিকেট, একটি গাছের চারা এবং ফ্লাওয়ার মার্কেটের দীর্ঘদিনের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তোড়া কেনার জন্য ৩০ পাউন্ডের ভাউচার। তার আঁকা ছবিটি পুরো বাজারজুড়ে তোড়া মোড়ানোর কাগজে মুদ্রিত হবে। রানার-আপ জাকি পেয়েছে সার্টিফিকেট এবং তার নিজের ডিজাইনে মোড়ানো একটি গাছ, যা মাদার্স ডে-তে বাজারের ব্যবসায়ীরাও ব্যবহার করবেন।

প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ চিত্রশিল্পী কোয়েন্টিন ব্লেক, যিনি ম্যাটিলডা এবং চার্লি এন্ড টি চকোলেট ফ্যাক্টরি -সহ বহু কিশোর সাহিত্যকর্মের জন্য পরিচিত। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কাজগুলোর মূল্যায়নের পাশাপাশি তিনি তার ব্যক্তিগত লাইব্রেরি থেকে নিজের আঁকা পাঁচটি বই স্কুলের লাইব্রেরিতে দান করেন।

মাদার্স ডে-তে কলাম্বিয়া রোড ফ্লাওয়ার মার্কেটে বিশেষভাবে মুদ্রিত মোড়ানোর কাগজ উন্মোচন করা হবে এবং সেদিনই ব্যবসায়ীরা তা ব্যবহার শুরু করবেন।

বিচারক কোয়েন্টিন ব্লেক বলেন, “শেষ চারটি ছবির মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া সত্যিই কঠিন ছিল, কারণ প্রতিটিতেই ছিল আলাদা বৈশিষ্ট্য। তবে শেষ পর্যন্ত আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি - বিজয়ী রেচেল পেরেইরার আঁকা ছবি। এটি অত্যন্ত সুন্দর, শক্তিশালী এবং দৃষ্টিনন্দন। দ্বিতীয় স্থান অধিকারী জাকি উদ্দিনের ছবিটিও অনন্য, বিশেষ করে পুরো পাতাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হলুদ দাগগুলো এটিকে আরও উজ্জ্বল করেছে। এসব কাজ দেখতে সত্যিই আনন্দ লেগেছে, এবং আমি আশা করি এই শিশু শিল্পীরা আরও অনেক আঁকবে।”

টাওয়ার হ্যামলেটস-এর এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটসে শুধু টাওয়ার অফ লন্ডনের ক্রাউন জুয়েলস নেই - আমাদের নিজস্ব অনেক 'ক্রাউন জুয়েলস' রয়েছে। সেরকমই একটি আমাদের পুরস্কারজয়ী কলাম্বিয়া রোড ফ্লাওয়ার মার্কেট। স্থানীয় শিশুদের সৃজনশীলতাকে এই ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করা সত্যিই অনন্য উদ্যোগ। কোয়েন্টিন ব্লেকের মতো কিংবদন্তি চিত্রশিল্পীর বিচারাধীন হওয়াও এটিকে আরও বিশেষ করেছে।”

সেইফার কমিউনিটিজ বিষয়ক কেবিনেট সদস্য কাউন্সিলর আবু তালহা চৌধুরী বলেন, “আমাদের বাজারগুলোই এই এলাকার বিশেষত্ব তৈরি করে। শিশুদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে সেই উদযাপনে অংশ নিতে দেখা সত্যিই আনন্দের। রেচেল ও জাকি গর্বিত হওয়ার মতো কাজ করেছে - তাদের শিল্পকর্ম এখন হাজারো মানুষের হাতে ধরে রাখা হবে। এই প্রতিযোগিতা বিদ্যালয়, ব্যবসায়ী ও সামগ্রিক কমিউনিটিকে একত্রিত করার এক সুন্দর উপায়।”

প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য ছিল মার্কেট ও স্থানীয় স্কুলগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত করা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো। একইসঙ্গে কলাম্বিয়া রোডকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার চলমান প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করতেও এটি সহায়ক।

সম্প্রতি কলাম্বিয়া রোড ফুল বাজার ২০২৬ সালের গ্রেট ব্রিটিশ মার্কেটস অ্যাওয়ার্ডস-এ সেরা মার্কেট আকর্ষণ পুরস্কার অর্জন করেছে। গত বছর এটি সেরা ছোট আউটডোর মার্কেট শিরোপাও জিতেছিল, যা লন্ডনের খুচরা বাজারগুলোর মধ্যে একমাত্র জাতীয় স্বীকৃতি।

মাদার্স ডে-তে বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের কলাম্বিয়া রোড ফুল বাজারে গিয়ে বিজয়ী ডিজাইনগুলো উপভোগ করতে এবং তরুণ শিল্পীদের সৃষ্টি সমর্থন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner