টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )ঢাকাঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে এই অঙ্গীকারকে যেন কেউ দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা না করেন—সেই বার্তাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন তিনি।তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব এখনো মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত। দেশের জনগণ অন্যায়, ভয়ভীতি, দমন-পীড়ন ও সন্ত্রাসের রাজনীতিকে আর কখনোই ফিরে আসতে দেবে না।ডা. শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, যে কোনো পক্ষ থেকেই হোক না কেন—ভয় ও নিপীড়নের রাজনীতি এ দেশে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ নেই। জনগণের আকাঙ্ক্ষা এখন পরিবর্তন, ন্যায় ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পক্ষে।আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।ফেসবুকে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ১১ দলীয় জোটের সমর্থকবৃন্দ, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির মতের সাথে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান রাখার কারণে নিরীহ নাগরিক ও ভোটার সহিংসতার শিকার হয়েছেন- আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রত্যেক নিরপরাধ ভুক্তভোগীর পাশে আমরা দৃঢ় সংহতি ঘোষণা করছি।জামায়াত আমির বলেন, যে জাতি সদ্য তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে, সেই জাতির বুকে সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনো স্থান নেই। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই- জুলাই বিপ্লব এখনো জীবিত। জুলাই সনদ ছিল একেবারে সুস্পষ্ট- আর কোনো স্বৈরাচার নয়; না রাষ্ট্রীয় শক্তির মাধ্যমে, না কোনো রাজনৈতিক দলের ছায়ায় থেকে। এ দেশের মানুষ একবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে, আবারো ভয়-ভীতির অন্ধকারে ফিরে যাবে না।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোরাল আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অবিলম্বে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনুন। দ্রুত ও দৃশ্যমান আইন প্রয়োগই পারে পরিস্থিতি অবনতির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং নিশ্চিত করতে, কোনো নাগরিক যেন বিকল্প উপায়ে নিরাপত্তা খুঁজতে বাধ্য না হন। প্রতিটি ঘটনা যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও রেকর্ড করতে হবে।জামায়াত ও জোটের নির্বাচিত এমপি, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি তার আহ্বান, দেরি না করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে যান, তাদের পাশে দাঁড়ান, সংহতি প্রকাশ করুন এবং প্রমাণগুলো সংগ্রহ করুন। ছবি, ভিডিওসহ সব তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দিন এবং গণমাধ্যমের সাথে শেয়ার করুন, প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলন করুন, যাতে সত্য জাতির সামনে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপিত হয়।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আসন্ন সরকারের প্রতিও আমাদের বার্তা পরিষ্কার- জনগণের ম্যান্ডেট কোনো লাইসেন্স নয়; এটি একটি শর্তযুক্ত আমানত। এই আমানতের মূল শর্ত হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সবার জন্য সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা প্রদান। সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় নিজের দল ও কর্মীদের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।তিনি আরো বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে আমাদের এই অঙ্গীকারকে কেউ দুর্বলতা মনে করবেন না। জুলাই বিপ্লব মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে। এ দেশে আর কখনো ভয়, দমন-পীড়ন বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেয়া হবে না- কারো পক্ষ থেকেই নয়।
জামায়াত আমির আমরা রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ, এটাকে দুর্বলতা মনে করবেন না








