কলাম ০৪ নভেম্বর ২০২৬

৯৯.৯ শতাংশ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি কী? প্রমাণ ছাড়া পুরো সাংবাদিক সমাজকে অপমান করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে ?

post

ঘটনার প্রেক্ষাপট : 

ব্রিটেনে স্থানীয় বাংলাদেশি সংবাদকর্মী, অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান  ও অ্যাওয়ার্ড বাণিজ্য নিয়ে করা একাধিক মন্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। লন্ডনভিত্তিক জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এস এর  প্রতিষ্ঠাতা ও স্বত্বাধিকারী মাহি ফেরদৌস জলিলের বক্তব্যে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং সংবাদমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে সাংবাদিকদের নিয়ে তাঁর করা ৯৯.৯ শতাংশের পরিসংখ্যানভিত্তিক দাবি, সাংবাদিকদের আর্থিক অবস্থা ও যোগ্যতা নিয়ে মন্তব্য এবং অ্যাওয়ার্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিষয়গুলো নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সাংবাদিকতার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে, অ্যাওয়ার্ডের স্বচ্ছতা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। কিন্তু সেই আলোচনা হতে হবে তথ্য, যুক্তি ও প্রমাণের ভিত্তিতে,ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা সামগ্রিকভাবে একটি পেশার মানুষকে হেয় করে নয়। 

সুতরাং ব্রিটেনের বাংলাদেশি কমিউনিটির সংবাদকর্মীদের নিয়ে জনসমক্ষে এমন মন্তব্য কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

সাংবাদিকদের ঘরে ভাত নেই, তাঁরা দাওয়াতের খাবারের জন্য অসত্য সংবাদ প্রচার করেন,এমন অবমাননাকর মন্তব্যের গবেষণা কোথায় ? আর অ্যাওয়ার্ড বাণিজ্যের অভিযোগের প্রমাণই বা কী ?

সুতরাং মিস্টার  মাহি ফেরদৌস জলিলের কাছে কয়েকটি সরাসরি প্রশ্ন রাখতে চাই।

১. ৯৯.৯ শতাংশ সাংবাদিক নিয়ে মন্তব্যের ভিত্তি কী ?

কোন গবেষণা, জরিপ কিংবা পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে আপনি ৯৯.৯ শতাংশ সাংবাদিককে নিয়ে এমন মন্তব্য করলেন? এই সংখ্যার তথ্য সূত্র কী ? নাকি এটি নিছক ব্যক্তিগত ধারণা ? একটি পেশার প্রায় সবাইকে অভিযুক্ত করার আগে তথ্য-প্রমাণ থাকা কি জরুরি নয় ? 

২. ব্রিটেনে সাংবাদিকদের বাড়িতে ভাতের অভাব,এই তথ্য কোথায় পেলেন ?

কোন সাংবাদিকের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে আপনার কাছে কী তথ্য রয়েছে ? কারও ব্যক্তিগত আর্থিক অসচ্ছলতাকে পুঁজি করে একটি গোটা পেশার মানুষকে হেয় করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে? সাংবাদিকদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে এমন মন্তব্যের তথ্যসূত্র প্রকাশ করুন।

৩. অ্যাওয়ার্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করুন।

অ্যাওয়ার্ডের নামে বাণিজ্য হয় কি না, সেটি অবশ্যই অনুসন্ধান ও সমালোচনার বিষয়। কোন প্রতিষ্ঠান কত টাকা নেয়, কী মানদণ্ডে পুরস্কার দেয়, বিচারপ্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ,এসব প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন। কিন্তু কয়েকটি ফি বা অর্থের অঙ্ক উল্লেখ করেই সব অ্যাওয়ার্ডকে কেনাবেচার স্বীকৃতি হিসেবে উপস্থাপন করা কতটা যৌক্তিক? আপনার অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কোথায় ?

৪. কার স্বার্থে ব্রিটেনের বাংলাদেশি কমিউনিটি ও সংবাদকর্মীদের এভাবে ছোট করলেন ?

আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ক্ষোভ কিংবা কোনো নির্দিষ্ট সাংবাদিকের সঙ্গে বিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার দায় পুরো সাংবাদিক সমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কেন? একজন বা কয়েকজনের আচরণের জন্য সবাইকে অপমান করা কি দায়িত্বশীলতার পরিচয় ? 

৫. বক্তব্যের অংশ বাদ দিলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি কেন ?

আপনার বক্তব্য সম্পূর্ণ প্রচার করার দাবি থাকলে সেটি অবশ্যই ন্যায্যভাবে উপস্থাপনের প্রশ্ন। কিন্তু সমালোচনা ও জবাবদিহির প্রশ্নকে আইনি হুমকির মাধ্যমে থামানোর চেষ্টা কেন ?

৬) সাংবাদিকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে নিজের প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকান। 

অন্য সাংবাদিকদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে মন্তব্য করার আগে নিজের প্রতিষ্ঠান চ্যানেল এস (Channel S)-এ কর্মরত সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের পারিশ্রমিক প্রদানের ক্ষেত্রে আপনি কতটা স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখেন, সেই প্রশ্নের উত্তর কি দিয়েছেন? অন্যের পেশাগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি নিজের প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ, সম্মানী ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েও আত্মসমালোচনা করা উচিত নয় কি ? 

মিস্টার মাহি ফেরদৌস সাহেব, মনে রাখবেন, সাংবাদিকদের সমালোচনা করার অধিকার আপনার আছে। অ্যাওয়ার্ড বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকারও আপনার আছে। কিন্তু সেই অধিকার আপনাকে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া একটি গোটা পেশার মানুষকে অপমান করার লাইসেন্স দেয় না।

সাংবাদিকতা কোনো দাওয়াতের খাবার নয়, কোনো অনুষ্ঠানের উপহার নয়, আর সাংবাদিকদের সম্মানও কারও ব্যক্তিগত অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল নয়।

আমরা জানতে চাই,আপনার ৯৯.৯ শতাংশের হিসাব কোথায়? সাংবাদিকদের বাড়িতে ভাত নেই,এই তথ্যের উৎস কী? আর অ্যাওয়ার্ড বাণিজ্যের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কী ?

অভিযোগ করলে প্রমাণ দিন। পরিসংখ্যান দিলে উৎস প্রকাশ করুন। সমালোচনা করলে যুক্তি দিয়ে করুন।

ব্যক্তিগত বক্তব্যের দায় ব্যক্তিগতভাবেই বহন করতে হবে। পুরো সাংবাদিক সমাজকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নিজেকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখার সুযোগ নেই।

সাংবাদিক সমাজের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি নয়,প্রমাণ চাই, ব্যাখ্যা চাই, জবাবদিহি চাই।


প্রবাসী সাংবাদিক শেখ মহিতুর রহমান বাবলুর ভেরিফায়েড ফেসবুক থেকে সংগৃহিত   








আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner