নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ, হেদায়া কিতাবে লিখিত আছে, ১। তাকবীরে তাহরীমা, ২। কেয়াম, ৩। কেরাত, ৪। রুকু, ৫। সিজদাহ, ৬। আখেরী বৈঠক।
ইহা ব্যতীত শরহে বেকায়া কিতাবে নামাজ হইতে বাহির হওয়াকে এক ফরজ লিখিয়াছেন। ইহাতে মোট ফরজ চৌদ্দটি দাঁড়াইতেছে। এতদ্ভিন্ন দুররুল হেকাম কিতাবে নামাজের কেয়াম ও রুকুর তরতীবের প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং মুনিয়া কিতাবে তা'দিলে আরকান ঠিক রাখা ও ফরজ লিখিয়াছেন। ইহাতে মোট হিসাব করিলে আহকাম আরকান ফরজ তেরটির স্থলে ষোলটি বলিয়া প্রমাণিত হয়। ইহার তাৎপর্য এই যে, মুনিয়া কিতাবে নামাজ হইতে বাহির হইবার জন্য কোনও কাজ করাকে একটি ফরজ বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন, ইহাতে মতভেদ আছে। ইমাম আবু আবু হানিফা (রঃ) ইহাকে ফরজ ও ইমাম আবু ইউসুফ (রঃ) এবং ইমাম মোহাম্মদ (রঃ) ইহাকে ওয়াজিব বলিয়াছেন। কাজেই এই ফরজটি মতভেদ জনিত বলিয়া সর্বজন প্রচলিত হয় নাই। আর কেয়াম ও রুকুর তরতীবের প্রতি লক্ষ্য রাখা ও ফরজ বটে, কিন্তু নামাজের মধ্যে সাধারণতঃ কেয়াম ও রুকু আপনা হইতেই যথা নিয়মে আদায় হইয়া যায়, তজ্জন্যই বোধ হয় কোন কোন মহাত্মাগণ ঐ ফরজটি প্রকাশ করেন নাই। তা'দিলে আরকানকে ইমাম আবু ইউসুফ (রঃ) ফরজ বলিয়াছেন এবং ইমাম মোহাম্মদ (রঃ) ও ইমাম আবু হানিফা (রঃ) ওয়াজিব বলিয়াছেন। কাজেই এটি ও মতভেদ জনিত বলিয়া তের ফরজের সহিত উল্লেখ হয় নাই।
হেদায়া কিতাবে তাকবীরে তাহরীমাকে ছেফাত অর্থাৎ রোকনের মধ্যে গণ্য করিয়াছেন। কিন্তু কেফায়া, বাহরুর রায়েক, জওয়াহারাতুন্নাইয়ারাহ, মাজমাউল-আনহুর, মোলতাকাল- আবহুর শরহে-বেকায়া, জামেউর রমুজ, আলমগীরি, শরম্বালালিয়া, দুররুল মোখতার, হাশিয়ায়ে-তাহতাবী,তাবইনুল হাকায়েক, মেফতাহুচ্ছালাত, কাজী খান, মারাফিল ফালাহ প্রভৃতি কিতাবে লিখিত আছে যে, তাকবীরে-তাহরীমা নামাজের শর্ত কিন্তু ইহাকে ইতিপূর্বে নামাজের রোকনের মধ্যে গণ্য করিয়াছেন। ইহার কারণ এই যে, উল্লেখিত সকল কিতাবেই তাকবীরে তাহরীমাকে রোকনের বয়ানে আলোচনা করিয়াছেন। কিন্তু উহা শর্তই বটে। এতদ্ভিন্ন শামী দুররুল মোখতার, তাবইনুল-হাকায়েক, হাশিয়ায়ে তাহতাবী ও কবীরী প্রভৃতি কিতাবেও তাকবীরে তাহরীমাকে রোকনের বয়ানে লিখিয়াছেন বটে, কিন্তু শর্ত বলিয়াই উল্লেখ করিয়া উহার কারণ এই লিখিয়াছেন যে, তাকবীরে তাহরীমা কেয়ামের অতি সংলগ্ন বলিয়াই উহাকে রোকনের অধ্যায় বর্ণনা করিয়াছেন। আমিও হেদায়া ও উল্লেখিত অন্যান্য কিতাব সমূহের মতে রোকনের মধ্যে উল্লেখ করিয়াছি। মূলে তাকবীরে তাহরীমা একটি শর্ত।
ইয়া আল্লাহ আমার এই শ্রম গুলো জান্নাতের ঝরিয়া হিসেবে কবুল করুন মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে নামাজের বিষয় গুলো জানার তাওফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমিন।
লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।


.jpg)





