হ্যাকনি উইক ও লোয়ার লি ভ্যালির ক্রিয়েটিভ এন্টারপ্রাইজ জোনের সাফল্য উদযাপন
ইস্ট লন্ডনের ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশ এবং স্থানীয় ক্রিয়েটিভ ব্যবসাগুলোর সাফল্য উদযাপন করতে হ্যাকনি উইক ও লোয়ার লি ভ্যালি ক্রিয়েটিভ এন্টারপ্রাইজ জোনের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন ব্যবসায়ী, অংশীদার প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ও হ্যাকনি কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে হ্যাকনি উইকে নতুন করে চালু হওয়া দ্য ইয়ার্ড থিয়েটারে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। এতে লন্ডনের মেয়রের কার্যালয়, দুই কাউন্সিল, কমিউনিটি সংগঠন, ক্রিয়েটিভ ওয়ার্কস্পেস প্রদানকারী এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
হ্যাকনি উইক ও লোয়ার লি ভ্যালি লন্ডনের মেয়রের ১২টি ক্রিয়েটিভ এন্টারপ্রাইজ জোন-এর একটি। চলতি বছর শহরের সংস্কৃতি ও ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিকে সহায়তা অব্যাহত রাখতে নয়টি জোনকে পুনরায় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে এই জোনটিও রয়েছে।
টাওয়ার হ্যামলেটস ও হ্যাকনি কাউন্সিলের অংশীদারিত্বে পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে ক্রিয়েটিভ ব্যবসাগুলোকে বিকাশ, সাশ্রয়ী মূল্যের ওয়ার্কস্পেসে প্রবেশাধিকার এবং স্থানীয় কমিউনিটির জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করা হচ্ছে।
বর্তমানে জোনটির মূল হ্যাকনি উইক ও ফিশ আইল্যান্ড এলাকার মধ্যেই প্রায় ৫০০টি ক্রিয়েটিভ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৯৬ শতাংশ ব্যবসা ক্রিয়েটিভ প্রোডাকশন খাতে কাজ করছে।
২০২৫ সালে ক্রিয়েটিভ এন্টারপ্রাইজ জোনটি টাওয়ার হ্যামলেটসের লোয়ার লিয়া ভ্যালি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়। এর ফলে ক্রিয়েটিভ ব্যবসা, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বৃহত্তর অর্থনীতির মধ্যে সংযোগ আরও শক্তিশালী হয়েছে।
অনুষ্ঠানে এখন পর্যন্ত কর্মসূচির বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরা হয় এবং পরবর্তী তিন বছরের অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সাশ্রয়ী মূল্যের ওয়ার্কস্পেস, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি।
অতিথিরা হ্যাকনি উইক ও লোয়ার লি ভ্যালির ক্রিয়েটিভ প্রোডাকশন ও টেকসই উদ্যোগের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব সম্পর্কেও জানতে পারেন। পরে দ্য ইয়ার্ড থিয়েটারের নতুন ভবন পরিদর্শন করেন তারা।
২০১৮ সালে ক্রিয়েটিভ এন্টারপ্রাইজ জোন প্রতিষ্ঠার পর থেকেঃ
- ক্রিয়েটিভ খাতে কর্মসংস্থান ১৪০ শতাংশ বেড়েছে।
- ক্রিয়েটিভ ব্যবসার সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
- শত শত ব্যবসা ব্যবসায়িক সহায়তা, অর্থায়ন ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ পেয়েছে।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের জবস, এন্টারপ্রাইজ, স্কিলস অ্যান্ড গ্রোথের ক্যাবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর শেনালি মিয়া বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটস এবং বৃহত্তর লোয়ার লি ভ্যালিতে যে সৃজনশীলতা, প্রতিভা ও উদ্যোক্তা মানসিকতা রয়েছে, তা নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত। আজকের এই আয়োজন শিল্পী, নির্মাতা ও ব্যবসাগুলোকে উদযাপনের সুযোগ, যারা এই এলাকাকে লন্ডনের অন্যতম প্রাণবন্ত ক্রিয়েটিভ কমিউনিটিতে পরিণত করতে ভূমিকা রাখছেন।"
তিনি আরও বলেন, “ক্রিয়েটিভ এন্টারপ্রাইজ জোন স্থানীয় ব্যবসা ও ক্রিয়েটিভ পেশাজীবীদের জন্য বাস্তব সুবিধা তৈরি করেছে। সাশ্রয়ী ওয়ার্কস্পেস এবং নতুন সুযোগ তৈরিতে এটি সহায়তা করছে। আমরা অর্জনগুলো উদযাপন করার পাশাপাশি সামনে তাকাচ্ছি এবং আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছি, যাতে আগামী বছরগুলোতেও ইস্ট লন্ডনে সৃজনশীলতার বিকাশ অব্যাহত থাকে।”
হ্যাকনি কাউন্সিলের কালচার, নাইটলাইফ, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডসের ক্যাবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর স্যাম ম্যাথিস বলেন, “হ্যাকনির পরিচয় ও স্থানীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ক্রিয়েটিভ পেশাজীবীরা। হ্যাকনি উইক ও ফিশ আইল্যান্ডে প্রায় ৫০০টি ক্রিয়েটিভ ও নাইটলাইফ ব্যবসা রয়েছে। লোয়ার লিয়া ভ্যালিতেও আরও অনেক ব্যবসা রয়েছে। ক্রিয়েটিভ এন্টারপ্রাইজ জোনের সহায়তায় শিল্পী ও নির্মাতাদের এই ইকোসিস্টেম আরও বিকশিত হচ্ছে।""
তিনি বলেন, “আজ হ্যাকনি উইকের ব্যবসাগুলোর সঙ্গে তাদের সাফল্য উদযাপন করতে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে তাদের আরও সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে পেরে আমি আনন্দিত।”
লন্ডনের ডেপুটি মেয়র ফর কালচার এন্ড দ্যা ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিজ, জাস্টিন সিমন্স ওবিই বলেন, “শিল্পীরা আমাদের ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রির প্রাণশক্তি এবং অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ কারণেই মেয়র ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিজ জোনগুলো প্রতিষ্ঠা করেছেন, যাতে শিল্পীরা আরও বেশি সহায়তা পান এবং আর্টিস্ট স্টুডিও কমে যাওয়ার প্রবণতা মোকাবিলা করা যায়।"
তিনি বলেন, “হ্যাকনি উইক ও লোয়ার লি ভ্যালিতে শিল্পী, নির্মাতা, ডিজাইনার ও ক্রিয়েটিভ ব্যবসার একটি অসাধারণ কমিউনিটি রয়েছে এবং এটি কী অর্জন করা সম্ভব তার একটি চমৎকার উদাহরণ। শিল্পীদের সহায়তা করার মাধ্যমে আমরা স্থানীয় অর্থনীতিকে সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করতে এবং ভবিষ্যতেও সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য এই এলাকাকে উপযুক্ত করে রাখতে সহায়তা করছি।”
আগামী তিন বছর অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসার বিকাশ, উদ্ভাবন ও সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং সাশ্রয়ী মূল্যের ক্রিয়েটিভ ওয়ার্কস্পেস সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিজ জোনগুলো লন্ডনের মেয়রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে শিল্পী ও ক্রিয়েটিভ পেশাজীবীদের রাজধানীতে দীর্ঘমেয়াদে কাজ ও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ এবং সাশ্রয়ী মূল্যের ক্রিয়েটিভ ওয়ার্কস্পেসে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়।
বর্তমানে লন্ডনের ১৩টি বরায় মোট ১২টি ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিজ জোন রয়েছে। এসব জোন স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিয়েটিভ কমিউনিটির বিকাশে সহায়তা করার পাশাপাশি লন্ডনকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ক্রিয়েটিভ রাজধানী হিসেবে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে।
হ্যাকনি উইক ও লোয়ার লি ভ্যালি ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিজ জোন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ও হ্যাকনি কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে।
ক্রিয়েটিভ খাতের যেসব ব্যবসা বিভিন্ন সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তারা আমাদের নির্ধারিত ওয়েবপেজে গিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেনঃ www.towerhamlets.gov.uk/lgnl/business/business_support_and_advice/Creative-Enterprise-Zone.aspx








