টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )ঢাকাঃ সাংবিধানিক নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।তিনি আজ রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তর প্রধান এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ কথা বলেন। ওই সময়ে উপস্থিত থেকে শুভেচ্ছা জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ বিভিন্ন সংস্থা প্রধানরাও এসময় উপস্থিত ছিলেন।স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে যেভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেরকম নির্বাচন এই গণতান্ত্রিক সরকার করবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছে। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চারটি নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়নি। দীর্ঘদিন পর ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার কাজ করছে।তিনি বলেন, এক বছর দীর্ঘ সময়। সংবিধানের নিয়মকানুন মেনে, সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচনে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিরাই নির্বাচিত হবেন।ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আমাদের এই মন্ত্রণালয় একটি ব্যতিক্রমধর্মী মন্ত্রণালয়। জনগণকে সরাসরি সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে এ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অগ্রগণ্য। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে কাজ করলে পুরো দেশ সঠিকভাবে পরিচালিত হবে। কারণ, এই মন্ত্রণালয় সরাসরি তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে কাজ করে। মন্ত্রণালয় সফল হলে সরকারও সফল হবে।তিনি বলেন, সরকার সব মানুষের সেবা করবে। তবে দরিদ্র মানুষের সেবাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিগত ১৭ বছরে ধনিক শ্রেণিকে সেবা দিতে গিয়ে দরিদ্র মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দরিদ্র মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করেছেন। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন মেটানোর লক্ষে কাজ করা হবে। দেশের জনগণই তাঁর অগ্রাধিকার।দুর্নীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার কোন ধরনের দুর্নীতিকেই প্রশ্রয় দেবে না। যারা করবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, শুধু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নয়, সরকারের সব পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; তারা আইনের শাসনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। সরকার সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা আইনি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আমাদের ক্যান্টনমেন্টের দল বলা হয়, অথচ আওয়ামী লীগ গনতন্ত্রকে হত্যা করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তা পুনরুদ্ধার করেছেন।বিচার বিভাগ নিয়ে মঈন খান বলেন, এই দেশের বিচার ব্যবস্থাকেও তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। বিচারের রায়, জজ সাহেব লিখতো না, মন্ত্রণালয়ে লেখা হতো। কাজেই আমরা কোনো উইচ হান্টিংয়ে বিশ্বাস করি না। আমরা চাই এই দেশে, সত্যিকারের অর্থে গণতান্ত্রিক যে সিস্টেম, সেই সিস্টেমটাকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ফিরিয়ে আনার জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আমরা সেই পথে হাঁটছি।সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিগত সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ঘিরে লুটপাট ও দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসতে তারা কাজ করছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই হবে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী








