২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন,র্যাব গঠিত হয়। শুরু থেকেই এই বাহিনীর কার্যক্রম ঘিরে যেমন সাফল্যের নানা গল্প তৈরি হয়েছিল, তেমনি বিতর্কও কম ছিল না।
র্যাব গঠনের পর সন্ত্রাসীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। একই সময়ে পুলিশের অনেক সদস্যের কাছ থেকেও শুনেছি, র্যাবের কার্যক্রমের কারণে তাদের অনৈতিক উপার্জনের সুযোগ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। অর্থাৎ, র্যাব একদিকে যেমন অপরাধীদের জন্য ভয়ঙ্কর নাম হয়ে উঠেছিল, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরের অনিয়ম নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছিল।
পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে র্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক সামনে আসে। বিশেষ করে বিভিন্ন অভিযান ও মানবাধিকার ইস্যুতে দেশ-বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়ে এই বাহিনী। ফলে সময়ের সঙ্গে র্যাবের প্রয়োজনীয়তা, কাঠামো ও ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।
এবার বিতর্কিত র্যাবের পরিবর্তে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের উদ্যোগ নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। একটি আধুনিক, দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার বিশেষায়িত বাহিনী গড়ে তোলা গেলে তা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার সরকারের এই উদ্যোগ যদি সত্যিই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ধান্দাবাজ ও ঘুষখোরদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে এসআরবি দ্রুতই অপরাধীদের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে পুলিশের ভেতরের অনৈতিক কর্মকাণ্ড কমিয়ে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে একটি বিশেষ বাহিনীর সাফল্য শুধু কঠোর অভিযানের ওপর নির্ভর করে না, এর সঙ্গে থাকতে হবে আইনের শাসন, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদারিত্ব। তাহলেই এসআরবি অতীতের বিতর্ক থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
অপরাধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক বিশেষ বাহিনী গড়ে উঠুক,এই প্রত্যাশায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-কে অগ্রিম অভিনন্দন।
দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, কমুক অপরাধ ও অনৈতিকতা,এটাই হোক এসআরবির মূল অঙ্গীকার।
শেখ মহিতুর রহমান বাবলু
লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক
লন্ডন : ১৯ আগস্ট ২০২৬








