এ-লেভেল রেজাল্ট প্রকাশের দিন টাওয়ার হ্যামলেটসজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বৃহস্পতিবার
(১৩ আগস্ট) শিক্ষার্থীরা তাদের এ-লেভেল এবং লেভেল-থ্রি ভোকেশনাল কোয়ালিফিকেশন
পরীক্ষার ফলাফল জানতে নিজ নিজ স্কুল ও কলেজে সমবেত হন। ফলাফল হাতে পেয়ে অনেক
শিক্ষার্থীর মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও আনন্দের হাসি, আর পরিবার ও শিক্ষকরাও তাদের
সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেন।
বো-এর সেন্ট পল’স ওয়ে ট্রাস্ট স্কুলেও ছিল একই রকম আনন্দঘন মুহুর্ত। ফলাফল সংগ্রহ
করতে আসা শিক্ষার্থীদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নিতে সেখানে উপস্থিত হন, কেবিনেট মেম্বার
ফর চিলড্রেন, ইয়াং পিপল এন্ড লাইফ চান্সেস, কাউন্সিলর ফয়সাল আহমেদ।
স্কুলটির শিক্ষার্থীরা এ বছরও অসাধারণ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। ইব্রাহিম রশিদ ম্যাথস
(গণিত), ফার্দার ম্যাথস, অর্থনীতি এবং কম্পিউটার সায়েন্সে চারটি ‘এ স্টার’ গ্রেড অর্জন করে
সবার নজর কেড়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিষয়ে পড়াশোনা করবেন। আইজ্যাক স্কট
ইতিহাস, আর্ট এবং গণিতে একটি ‘এ স্টার’ ও দুটি ‘এ‘ গ্রেড অর্জন করেছেন। তিনি বেলজিয়ামের
একটি চার্চে এক বছর কাজ করার পর ২০২৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্কিটেকচার নিয়ে পড়াশোনা
শুরু করবেন। অন্যদিকে সিয়ানা ইয়াসমিন ইতিহাস, অর্থনীতি এবং রাজনীতিতে দুটি ‘এ’ এবং একটি
‘বি’ গ্রেড অর্জন করে তার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করেছেন।
ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় সেন্ট পল’স ওয়ে স্কুলের সেকেন্ডারী এন্ড সিক্সথ ফরম এর হেড,
ফিরদৌসি উদ্দিন বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের অসাধারণ অর্জনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
তাদের কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ়তা এবং শিক্ষক, পরিবার ও বৃহত্তর কমিউনিটির সহায়তার ফলেই এই
সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। এই ফলাফল তাদের সামনে নতুন ও উচ্চাভিলাষী সম্ভাবনার দুয়ার
খুলে দিয়েছে। আমি সকল শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করছি এবং তাদের পরিবার ও
আমাদের কর্মীদের ধন্যবাদ জানাই, যারা প্রতিনিয়ত তাদের সমর্থন দিয়ে গেছেন।”
টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান সকল শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন
জানিয়ে বলেন, “আমি সকল শিক্ষার্থীকে তাদের এ-লেভেল ফলাফলের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন
জানাই। দেশের যেকোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তুলনায় টাওয়ার হ্যামলেটসে সবচেয়ে বেশি তরুণ
জনগোষ্ঠী রয়েছে। তাই আমাদের তরুণদের জন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম
প্রধান অগ্রাধিকার। শিক্ষার প্রতিটি পর্যায়ে তরুণদের সহায়তা করার লক্ষ্যে আমরা
উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের ব্যবস্থা করেছি, যার মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে স্কুল মিল, স্কুল পোশাক
অনুদান, এডুকেশন মেইন্টেন্যান্স এলাউন্স (ইএমএ) এবং ইউনিভার্সিটি বার্সারি। এই ফলাফল
আবারও প্রমাণ করে যে তরুণদের প্রতি বিনিয়োগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষার্থীরা তাদের
লক্ষ্য অর্জনে কতটা কঠোর পরিশ্রম করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সকল অভিভাবক, শিক্ষক, স্কুল ও কলেজের কর্মীদের ধন্যবাদ জানাই,
যারা শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যের পথে সমর্থন ও প্রেরণা জুগিয়েছেন।”
কেবিনেট মেম্বার ফর চিলড্রেন, ইয়াং পিপল এন্ড লাইফ চান্সেস, কাউন্সিলর ফয়সাল আহমেদ
বলেন, “সকল শিক্ষার্থীকে তাদের ফলাফলের জন্য অভিনন্দন। আমি কাছ থেকে দেখেছি আমাদের
তরুণরা কতটা নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সঙ্গে পড়াশোনা করেছে এবং কীভাবে আমাদের শিক্ষকরা
তাদের সাফল্যের জন্য অক্লান্তভাবে কাজ করেছেন। এটি সাফল্য উদযাপনের সময় এবং টাওয়ার
হ্যামলেটসের তরুণদের অসাধারণ প্রতিভাকে স্বীকৃতি দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।”
এদিকে ফলাফল পাওয়ার পর যেসব শিক্ষার্থী তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তায়
রয়েছে, তাদের জন্য সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে টাওয়ার হ্যামলেটসের তরুণদের ক্যারিয়ার সেবা
“ইয়াং ওয়ার্কপাথ”। এই সার্ভিস শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য, পরামর্শ
এবং দিকনির্দেশনা প্রদান করছে। শিক্ষার্থীরা সরাসরি সাক্ষাৎ, টেলিফোন বা ভিডিও কলের
মাধ্যমে ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে নিজেদের জন্য উপযুক্ত পরবর্তী পথ নির্ধারণ
করতে পারবে।
এ বছরের ফলাফল টাওয়ার হ্যামলেটসের তরুণদের মেধা, অধ্যবসায় ও সম্ভাবনার আরেকটি
উজ্জ্বল প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়
অর্জিত এই সাফল্য তাদের ভবিষ্যৎ যাত্রার জন্য এক শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।







