কমিউনিটি ০৮ আগস্ট ২০২৬

‘শিকড় থেকে শিখরে’: লন্ডনে বৃহত্তর জলঢুপ-কালাইউরার পাঁচ কৃতিজনকে সংবর্ধনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশির দশকের সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্মাননা, যুক্তরাজ্যে পেশাগত, সামাজিক ও মানবিক অবদানের স্বীকৃতি

post

লন্ডনে ‘শিকড় থেকে শিখরে—আমাদের গর্বিত কৃতিজন’ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পাঁচ কৃতি জন ও অতিথিবৃন্দ।ছবি :tv19online.com

টিভি নাইনটিন লন্ডন ডেস্ক সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার বৃহত্তর জলঢুপ ও কালাইউরা গ্রামের আশির দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মানে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। ‘শিকড় থেকে শিখরে—আমাদের গর্বিত কৃতিজন’শীর্ষক এ আয়োজনে যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন পেশায় উচ্চপদে দায়িত্ব পালন এবং সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা পাঁচ কৃতি জনকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

গত ৫ আগস্ট বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় পূর্ব লন্ডনের লন্ডন এন্টারপ্রাইজ স্কুলের হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ৫২বাংলা মিডিয়া ইউকে ও টি আলী স্যার ফাউন্ডেশন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরান থেকে তেলোয়াত করেন হাফেজ মাওলানা আনোয়ার হোসাইন।

 অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব ও মাইগ্রেন্ট ভয়েসের প্রেসিডেন্ট হাবিব রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরী।

ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং ৫২বাংলার সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম অভির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন টি আলী স্যার ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাসুদ চৌধুরী, নুরুজ্জামান জামান এবং ৫২বাংলার হেড অব কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স ছরওয়ার আহমদ।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত পাঁচ কৃতিজন হলেন—ফখরুল ইসলাম মিসবাহ, ফয়েজ আহমদ ছানা, এ কে এম কামরুজ্জামান, মো. ফখরুজ্জামান ফখরু এবং সাব্বির আহমদ রাজু।

অনুষ্ঠানে টি আলী স্যার ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও চ্যানেল এস টেলিভিশনের সাউথ ইস্ট লন্ডন প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক  ফয়সাল আহমদ রুহেলের আবেগাপ্লুত বক্তব্য কাঁদিয়েছে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বড় ভাইকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন টাকা পয়সার অভাবে শেষ করতে পারেন নি লেখাপড়া ।পরিবারের বড় ছেলে বাবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দায়িত্ব নিতে হবে পরিবারের সেই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে লেখাপড়া শেষ না করে আমেরিকাতে পাড়ি জমান ।দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে ফিরিয়েছেন পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ।

আয়োজকরা জানান, সংবর্ধিত পাঁচজনই যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পেশায় গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের দায়িত্ব পালন করছেন। কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের পাশাপাশি তাঁরা সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাঁদের এই বহুমাত্রিক অবদানের স্বীকৃতি এবং বৃহত্তর জলঢুপ-কালাইউরার নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের সাফল্যের গল্প তুলে ধরতেই এ আয়োজন।

অনুষ্ঠানে পাঁচ কৃতিজনের জীবন, শিক্ষাজীবন ও কর্মময় পথচলার ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, মানুষের পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি নিজের শিকড় ও জন্মভূমির সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসে থেকেও এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ বৃহত্তর জলঢুপ ও কালাইউরা এলাকার কৃতি মানুষদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করবে।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সংগঠকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner