টাওয়ার হ্যামলেটসের নারী ও মেয়েরা ৩০ জুলাই, বৃহস্পতিবার নারী সেন্টারের সামার ফেস্ট ২০২৬-এ একত্রিত হন। শুধুমাত্র নারীদের জন্য আয়োজিত এই প্রাণবন্ত উৎসবটি ছিল সংস্কৃতি, সুস্থতা, সৃজনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়নের এক অনন্য উদযাপন।
হোয়াইটচ্যাপেলের ভ্যালেন্স রোডে অবস্থিত নারী সেন্টারে আয়োজিত এ উৎসবে সারাদিনজুড়ে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ক কার্যক্রম, কেনাকাটার সুযোগ এবং কমিউনিটি সম্পৃক্ততার নানা আয়োজন।
অতিথিরা বাংলা ও ইংরেজি গানের পরিবেশনা উপভোগ করেন। পাশাপাশি পাইলেটস, জুম্বা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং রেফেল ড্র’র মতো আয়োজন উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। পুরস্কারের মধ্যে ছিল ইয়র্ক হলের বিওয়েল স্পায় একটি বিলাসবহুল স্পা প্যাকেজ, ব্রিক লেনের একটি রেস্তোরাঁয় খাবারের সুযোগ এবং একটি বিউটি হ্যাম্পার। উইমেন্স মার্কেটপ্লেসে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তাদের স্টলে ছিল সুস্বাদু খাবার, হাতে তৈরি শিল্পকর্ম, গয়না, পোশাক, মেহেদি, ম্যাসাজ এবং ফেস পেইন্টিংয়ের আয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেবিনেট মেম্বার ফর ট্যাকলিং ইনইক্যুয়েলিটি এন্ড দ্যা কস্ট অব লিভিং, এবং ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাইয়ুম তালুকদার, কেবিনেট মেম্বার ফর হেলদি, কেয়ারিং এন্ড ইনক্লুসিভ কমিউনিটিজ, কাউন্সিলর সাবিনা আকতার, কেবিনেট মেম্বার ফর লেইজার, কালচার এন্ড ট্যুরিজম, কাউন্সিলর মিনারা খাতুন, কেবিনেট মেম্বার ফর জবস্, ইন্টারপ্রাইজ, স্কিলস্ এন্ড গ্রোথ কাউন্সিলর শেনালি মিয়া, কেবিনেট মেম্বার ফর চিলড্রেন ইয়াং পিপল এন্ড লাইফ চান্সেস, কাউন্সিলর ফায়সল আহেমেদ, কাউন্সিলর রোওজি খানম, কাউন্সিলর হালিমা ইসলাম, কাউন্সিলের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
র্যাফেল ড্রয়ের সৌভাগ্যবান বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাইউম তালুকদার এবং কাউন্সিলর সাবিনা আখতার।
উল্লেখ্য, নারী সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বাগতপূর্ণ স্থান হিসেবে, যেখানে তারা নতুন দক্ষতা অর্জন, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সহায়তা সেবা গ্রহণের সুযোগ পান।
কেন্দ্রটিতে রয়েছে শ্রেণিকক্ষ, আইটি স্যুট, কমিউনিটি কিচেন, ক্রেশ সুবিধা এবং ব্যক্তিগত পরামর্শ ও সহায়তার জন্য পৃথক কক্ষ।
কেবিনেট মেম্বার ফর হেলদি, কেয়ারিং এন্ড ইনক্লুসিভ কমিউনিটিজ, কাউন্সিলর সাবিনা আকতার বলেন, "নারী সেন্টারে এত নারীর একত্রিত হওয়া এবং স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ক সুযোগ-সুবিধাগুলো গ্রহণ করতে দেখে খুবই ভালো লেগেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিউনিটি হাবে পরিণত হয়েছে, যা নারীদের সক্রিয় থাকতে, শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে এবং ইতিবাচক সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।"
তিনি বলেন, "ফ্রি ব্যায়াম ক্লাস, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বিষয়ক কর্মশালা এবং মানসিক সুস্থতা সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে নারী সেন্টার নারীদের স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তুলতে এবং নিজেদের সার্বিক কল্যাণ উন্নয়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করছে।"
টাওয়ার হ্যামলেটসের ডেপুটি মেয়র এবং বৈষম্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলা, কাস্টমার সার্ভিস উন্নয়ন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সম্পৃক্ততা বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর মাইউম তালুকদার বলেন, "নারী সেন্টার প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি স্থান তৈরি করা, যেখানে নারীরা এক জায়গায় বিভিন্ন ধরনের সহায়তা, সুযোগ এবং সেবা পেতে পারেন।"
কাউন্সিলর তালুকদার বলেন, "কারও যদি আবাসন বা বেনিফিট সংক্রান্ত পরামর্শ, বিশেষজ্ঞ সহায়তা কিংবা নতুন কিছু শেখার এবং অন্যদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য একটি জায়গার প্রয়োজন হয়, তাহলে নারী সেন্টার তাদের জন্য উন্মুক্ত।
"ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা শুরু করার পর থেকে কেন্দ্রটি ইতোমধ্যেই অসংখ্য নারীকে সহায়তা দিয়েছে এবং আমরা এটিকে আরও সমৃদ্ধ হতে দেখে গর্বিত।"
ডেপুটি মেয়র বলেন, "আমি টাওয়ার হ্যামলেটসের সকল নারী ও মেয়েদের নারী সেন্টারে এসে এখানকার বিস্তৃত সেবা, কার্যক্রম ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানার আহ্বান জানাই। পরামর্শ, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা সহায়তা, প্রশিক্ষণ, বন্ধুত্ব কিংবা কমিউনিটির সঙ্গে সংযোগ, যা-ই প্রয়োজন হোক না কেন, নারী সেন্টারে সবার জন্য কিছু না কিছু রয়েছে।"
অনুষ্ঠানটির সফল আয়োজন নিশ্চিত করতে নারী সেন্টারের কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং কমিউনিটি অংশীদাররা একযোগে কাজ করেন। এটি বিভিন্ন পটভূমির নারী ও পরিবারের প্রতি সংগঠনটির চলমান অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
উৎসবে যোগদানকারী অনেকেই নারী সেন্টারের সেবার প্রশংসা করেন।
প্রথমবারের মতো নারী সেন্টারে আসা নিকোল বলেন,"কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে আমাদের অনেকেই মানসিক চাপ, শারীরিক দুর্বলতা এবং নানাবিধ ব্যক্তিগত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। আমরা অনেক সময় এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে বা সহায়তা চাইতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। তবে সঠিক সহায়তা ও দিকনির্দেশনা পেলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অনেক সহজ হয়। কমিউনিটিকে এমন সহায়তা দিতে পারায় আমরা নারী সেন্টারের প্রতি কৃতজ্ঞ।"
আরেকজন প্রথমবারের নারী সেন্টারে আগত লিন্ডা বলেন,"এই প্রথম আমি কেন্দ্রটি পরিদর্শন করলাম এবং এখানে যা দেখেছি তাতে আমি সত্যিই মুগ্ধ।"
নিয়মিত সেবাগ্রহীতা রোচি আর্চি বলেন, "নারী ও মেয়েদের জন্য এখানে অসংখ্য কার্যক্রম রয়েছে। কেন্দ্রটির অন্যতম বিশেষ দিক হলো এর সুবিধাজনক অবস্থান, যা হোয়াইটচ্যাপেলের কাছাকাছি হওয়ায় সবার জন্য সহজে যাতায়াতযোগ্য। আমি আমার বন্ধু ও পরিচিতদের এখানে যুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করব।"
পামেলা মেনজিস বলেন,"নারীদের জন্য একটি নিরাপদ, ব্যক্তিগত ও গোপনীয় স্থান থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারেন। নারী সেন্টার ধারাবাহিকভাবে তাদের সেবা সম্প্রসারণ করছে, যা নারীদের জন্য সহায়তা আরও সহজলভ্য করছে এবং একই সঙ্গে তাদের আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও কমিউনিটির সঙ্গে সংযোগ আরও শক্তিশালী করছে।"
সামার ফেস্ট আবারও প্রমাণ করেছে যে, নারী সেন্টারের মতো কমিউনিটি-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নারীদের সুস্থতা বৃদ্ধি, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কমানো এবং তাদের বিকাশ ও ক্ষমতায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
নারী সেন্টার সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এর ঠিকানা: ৬১ ভ্যালেন্স রোড, লন্ডন E1 5AB।
বিনামূল্যের কার্যক্রম ও সহায়তা সেবা সম্পর্কে আরও জানতে ভিজিট করুন: www.towerhamlets.gov.uk/nari








