সিলেট ২০ জুলাই ২০২৬

ভারী বৃষ্টিতে সিলেট-নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা

post

টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )সিলেটঃ দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুরসহ একাধিক জেলায় চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।সোমবার (২০ জুলাই) প্রকাশিত কেন্দ্রটির নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের তিনটি নদীর চারটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এর প্রভাবে সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানির প্রবাহ আরও বাড়তে পারে।বুলেটিন অনুযায়ী, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ), সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ) এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) স্টেশনে পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এসব এলাকার নিম্নাঞ্চলে নতুন করে প্লাবন দেখা দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও আগামী দুই দিনে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী নিচু এলাকায় আকস্মিক অথবা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বেড়েছে, যদিও কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী তিন দিনের মধ্যে দুই নদীর পানিই আবার বাড়তে পারে। বিশেষ করে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় নদীর পানি পুনরায় বিপৎসীমা ছাড়িয়ে গিয়ে চলমান বন্যাকে আরও তীব্র করতে পারে।এ ছাড়া সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এসব নদীর পানি বাড়তে থাকলে শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে নতুন করে পানি প্রবেশ করতে পারে। কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকে প্লাবিত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা নদীর পানি বাড়ার ধারা অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে পদ্মা নদীর পানি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী পাঁচ দিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী, আত্রাই এবং ঘাঘট নদীর পানিও ক্রমেই বাড়ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নওগাঁ ও নাটোর জেলার কিছু এলাকায় আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।চট্টগ্রাম বিভাগেও নদীর পানির প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী। ইতোমধ্যে সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে সাঙ্গু, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।বিশেষজ্ঞদের মতে, উজানের ভারী বৃষ্টিপাত এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বৃষ্টির প্রভাব একসঙ্গে পড়ায় সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner