গ্রাম বাংলা ০৮ জুলাই ২০২৬

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহত বেড়ে ৮, জীবিত উদ্ধার ১৩

post

টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )কক্সবাজারঃ কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানার ওপর পড়ে এখন পর্যন্ত আট শিশুশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।এ সময় ১৩ শিশুশিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।বুধবার (৮ জুলাই) বেলা ২টার দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকের খাদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে সাত থেকে ১০ বছর বয়সী মেয়েশিশুরা পড়ছিল। ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে এবং সিসিসিএমের স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। ঘটনাস্থলে এপিবিএন সদস্যরা রয়েছেন। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেছেন কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাম্প-৫ এলাকা থেকে এ পর্যন্ত আট জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চার জন ঘটনাস্থলেই এবং অপর চার জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ১৩ শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের ক্যাম্প-৩-এর জিকে হাসপাতাল, ক্যাম্প-৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল এবং ক্যাম্প-৬-এর আইআরসি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে এবং সিসিসিএমের স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় পরিচালিত উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। ঘটনাস্থলে এপিবিএন সদস্যরা রয়েছেন। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেছেন আরআরআরসির কর্মকর্তারা।১৩ শিশুশিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছেনিহতদের মধ্যে চার জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলো- রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২), উমাইসা বিবি (১৩)। অপর শিশুদের পরিচয় জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে দুপুরে হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে মাদ্রাসা ও হেফজখানার ওপর পড়ে। এতে মাদ্রাসার শিশুশিক্ষার্থী মাটির নিচে চাপা পড়ে। পরে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়। চার ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আট শিশুর লাশ এবং ১৩ শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।উখিয়ার ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত ডিআইজি ও কমান্ডিং অফিসার মোহাম্মদ সিরাজ আমিন  বলেন, ‘ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে মাদ্রাসা ও হেফজখানার ওপর পড়ে। সে সময় সেখানে ২০ জনের বেশি শিশু কোরআন শিক্ষা নিচ্ছিল। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে মাদ্রাসার ওপর আছড়ে পড়ে। সে সময় ভেতরে ২০ জনের বেশি শিশু কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করছিল। মুহূর্তেই সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, এপিবিএন সদস্য, স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত আট জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner