কমিউনিটি ৩০ জুন ২০২৬

জমকালো আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো মেডওয়ে বাঙালি কমিউনিটির প্রথম গ্রীষ্ম মেলা

post

টিভি নাইনটিন লন্ডন ডেস্ক : জমকালো আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো মেডওয়ে বাঙালি  কমিউনিটির প্রথম গ্রীষ্ম মেলা।গত ২৮ জুন রোববার স্থানীয় সেন্ট জন ফিশার স্কুল মিলনায়তনে আয়োজিত এ মেলায় প্রবাসী বাঙালিদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

বাঙালি কমিউনিটি মেডওয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ গ্রীষ্ম মেলায় ছিল মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক আয়োজন। গান, নৃত্য, নাটিকা, অভিনয় ও কবিতা আবৃত্তিসহ নানা পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। বিশেষ করে তানজিনার নৃত্য-কোরিওগ্রাফি উপস্থিত দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে এবং ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। এছাড়া দেশীয় খাবারের স্টল, বিভিন্ন প্রদর্শনী এবং পরিবারভিত্তিক বিনোদনের নানা আয়োজন মেলায় আগত সবার জন্য ছিল বাড়তি আকর্ষণ।সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন বিশিষ্ট প্লেব্যাক সিঙ্গার সিমি সিফাত ,মোঃ রবিন ও মিনু রায়। 

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্ট এলাকার রাজার সহকারী প্রতিনিধি (Deputy Lieutenant) ড. জিলিয়ান ফার্গার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেডওয়ের মেয়র ডগলাস হামানদিশে , ব্রিটিশ সংসদ সদস্য ক্রিস ওসবোর্ন , বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী, কাউন্সিলর মারিয়ান মেস্তোরভ , কাউন্সিলর ভিন্স ম্যাপল  এবং কাউন্সিলর অ্যাডাম প্রাইস ।

অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষে বক্তব্য দেন আমেনা করিম, ডা. মাহমুদুল হাসান রাহাত, অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক চঞ্চল, সিদ্দিকা অপি, সিমি সিফাত, জুয়েল খান, ডা. জিবরান, আয়শা শামীম, সুলতানা মানুম, মাহবুব হাসান, নিলেন্দু দেবনাথ, ফারিহা চৌধুরী, খাইরুল বাসার রাজন, রিমা চৌধুরী, লস্কর রাজুসহ আরও অনেকে।

প্রধান অতিথি ড. জিলিয়ান ফার্গার বলেন, "মেডওয়ে বাংলা কমিউনিটির এ আয়োজন শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, এটি বিভিন্ন সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলার একটি সুন্দর উদ্যোগ। বাংলাদেশি কমিউনিটি তাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আতিথেয়তার মাধ্যমে এই সমাজকে আরও সমৃদ্ধ করছে। নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি, ভবিষ্যতেও মেডওয়ে বাংলা কমিউনিটি আরও বড় পরিসরে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করবে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।" 

আয়োজকদের পক্ষ থেকে ডা. মাহমুদুল হাসান রাহাত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "মেডওয়ে বাংলা কমিউনিটির প্রথম গ্রীষ্ম মেলাকে সফল করতে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। অতিথি, সাংবাদিক ,স্বেচ্ছাসেবক, শিল্পী, অংশগ্রহণকারী, পৃষ্ঠপোষক এবং দর্শকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই আয়োজন সফল হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রবাসে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন গড়ে তোলা।" ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে এমন আয়োজনের মাধ্যমে কমিউনিটিকে একত্রিত রাখার কথা জানান সনামধন্য এই চিকিৎসক। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এটি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রও তৈরি করছে।

দুপুর দুইটা থেকে রাট সাড়ে নয়টা পর্যন্ত চলা  প্রাণবন্ত এ আয়োজনের নিরাপত্তা ও স্বেচ্ছাসেবকের দ্বায়িত্ব পালন করেন ইকবাল হোসেন ,প্রদীপ রায় ও শাহনাজ।


এবারের গ্রীষ্ম মেলা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অংশগ্রহণকারী, অতিথি,সাংবাদিক , স্বেচ্ছাসেবক ও পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক চঞ্চল ।ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই আইনজীবী ।



 

 

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner