খেলাধুলা ১২ মে ২০২৬

পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘হ্যাটট্রিক’ টেস্ট জয় বাংলাদেশের

post

টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )স্পোর্টস: শেষ দিনে রোমাঞ্চ ছাপিয়ে মিরপুর টেস্ট বাংলাদেশের। নাহিদ রানার গতি ঝড়ে ভেঙে পড়লো সফরকারীদের ইনিংস। ঘরের মাঠে হেসেখেলেই জিতেছে টাইগাররা। পাকিস্তান হেরে গেছে ১০৪ রানে।মিরপুরকে ভালোভাবে চিনতে পারেননি সালমান আগা। নইলে কী আর অমন হুমকি দিয়ে বলতেন- বাংলাদেশ ২৬০ করলেও জিতে যাবেন! তার হুমকি ধোপে টিকলো না। দেড় শ’ পেরোতেই তাদের দৌড় শেষ।২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে স্বাগতিকদের সাথে টেস্টে প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের ওই সিরিজে ২-০ ব্যবধানেই জিতেছিল টাইগাররা। এবার দেশের মাটিতেও ধারাবাহিক জয়। ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ে হ্যাটট্রিক করল বাংলাদেশ।দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে মিরপুরে টসে হেরে আগে ব্যাট করে ৪১৩ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৩৮৬ রান তুলে প্রথম ইনিংস শেষ করে পাকিস্তান। স্বাগতিকেরা লিড পায় ২৭ রানের।এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ২৭ রানের লিডসহ বাংলাদেশের পুঁজি দাঁড়ায় ২৬৭। যা তাড়া করতে গিয়ে ১৬৩ রানেই গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান।নাহিদ রানা প্রথম ইনিংসে তেমন কিছু করতে পারেননি, নিয়েছিলেন মাত্র ১ উইকেট। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে দেখা দিলেন আগুনে রূপে, যে আগুনে পুড়লো পাকিস্তান। মাত্র ৪০ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট, যা তার ক্যারিয়ার সেরা।শান মাসুদকে ফিরিয়ে সকালেই যদিও উইকেটের দেখা পেয়েছিলেন নাহিদ রানা, তবে জ্বলে ওঠেন তিনি আসল সময়েই। শেষ ৫ উইকেটের ৪টাই দখলে গেছে তার। আর মাত্র ১১ রানে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান।এর আগে মঙ্গলবার টেস্টের পঞ্চম দিনে ৩ উইকেটে ১৭৯ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে দিনের শুরুতেই মুশফিকুর রহিমের (২২) উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সুবিধা করতে পারেননি লিটন দাসও।শাহিন আফ্রিদির শিকার হয়ে থামেন ১১ রানে। দলকে ২১৬ রানে রেখে ফেরেন অধিনায়ক শান্ত। আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটার এই ইনিংসেও ছিলেন শতকের পথেই।তবে তা আর হয়নি। এলবিডব্লু হয়ে থামেন ১৫০ বলে ৮৭ রান করে। এরপর মেহেদী মিরাজের ২৪ ও তাসকিন আহমেদ ১১ রান করলে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪০ পর্যন্ত পৌঁছায় বাংলাদেশ।

মাত্র ৫০ রান তুলতেই শেষ ৫ উইকেট হারায় টাইগাররা। এরপর ইনিংস ঘোষণা করে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। পাকিস্তানের হয়ে এই ইনিংসে হাসান আলী ও নোমান আলী নেন ৩টি করে উইকেট।বল হাতে প্রথম উইকেটের দেখা পেয়ে যায় বাংলাদেশ, মধ্যাহ্নভোজে যাবার আগেই। রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই ইমাম উল হকের (২) উইকেট হারায় পাকিস্তান। তাকে ফেরান তাসকিন আহমেদ।এরপর প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। তাদের চেষ্টা রুখে দেন মেহেদী মিরাজ। ৫৪ রানের জুটি ভেঙে ফেরান ১৫ রান করা আজানকে।চারে নামা পাকিস্তান অধিনায়ককে টিকতে দেননি নাহিদ রানা। গতিময় এই পেসারের চমৎকার ডেলিভারিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শান মাসুদ (২)। এরপর হাল ধরেন ফজল আব্দুল্লাহ ও সালমান আগা।দুজনে মিলে ৯৯ বলে ৫১ রানের জুটি গড়ে দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে বাধ সাধেন তাইজুল ইসলাম। ১১৩ বলে ৬৬ রান করে ফেলা ফজলকে এলবিডব্লু করে থামান তিনি। যেন নামে গলার কাঁটা।পরের উইকেট আসতে দেরি হয়নি, এবার আঘাত আনেন তাসকিন। ৩৯ বলে ২৬ রান সালমানকে ফেরানোর পেছনে বড় অবদান সাদমানের। দারুণ এক ক্যাচ নেন তিনি। ৬ বলের মাঝে ২ উইকেট হারায় সফরকারীরা।এরপরও মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌদ শাকিল ছিলেন মাঠে। তবে তাদের থিতু হতে দেননি রানা। দুজনকেই ফেরান তিনি। এরপর হাসান আলী (১) তাইজুলের শিকার হলে ৮ উইকেট হারায় পাকিস্তান।বাকি দুই উইকেট তুলে নিয়ে এরপর রানা গুটিয়ে দেন পাকিস্তানকে। ৩ উইকেটে ১১৯ থেকে ১৬৩ রানে শেষ পাকিস্তানের ইনিংস। রানার ৫ উইকেট ছাড়াও ২টি করে উইকেট নেন তাসকিন ও তাইজুল।বলা বাহুল্য, দেশের মাটিতে এটাই পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে তারা জিতলো টানা তিনটি টেস্টে।উল্লেখ্য, প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ চার শতাধিক রান করেছিল নাজমুল হোসেন শান্ত (১০১) ও মুমিনুল হকের কল্যাণে (৯১)। এ ছাড়া ৭১ রান করেন মুশফিকুর রহিম। বল হাতে পাকিস্তানের হয়ে ৫ উইকেট নেন আব্বাস।এরপর পাকিস্তান ৩৮৬ রান করে আজান আওয়াইসের ব্যাটে ভর করে। অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি (১০৩) করেন তিনি। এ ছাড়া ফিফটি করেন ফজল, রিজওয়ান ও সালমান। বল হাতে ৫ উইকেট নেন মিরাজ।

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner