টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )ঢাকাঃ মরণব্যাধি হামের প্রকোপে দেশে প্রাণহানির মিছিল থামছেই না। ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে রাজধানী ঢাকায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।শনিবার (২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই মৃত্যুগুলো রেকর্ড করা হয়। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৪ জন শিশুর শরীরে হামের বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে ৭২ জন শিশুর শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক উদ্বেগজনক সংকেত হিসেবে দেখছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত গত দেড় মাসে হামের উপসর্গে দেশে মোট ২৩৫ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে রোগ শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসারত অবস্থায় মারা গেছে ৪৯ জন শিশু। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে সারা দেশে ৩৯ হাজার ৩২৫ জন শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে অসুস্থ হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ২৬ হাজার ৯১১ জন শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ শেষে ২৩ হাজার ২২৫ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছে।বর্তমানে রাজধানীর ডিএনসিসি হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আক্রান্ত শিশুদের ভিড় বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় মোট ৫ হাজার ২১৮ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত শিশুরা প্রচণ্ড জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ এবং শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতায় ভুগছে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেশি দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বিভিন্ন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ এবং এটি দ্রুত বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে শিশুদের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। যদি কোনো শিশুর শরীরে জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শিশুদের প্রাণ রক্ষা করতে জাতীয়ভাবে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ না নিলে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু








