বাংলাদেশ ২৭ এপ্রিল ২০২৬

গুলশানে জরুরি বৈঠক ছাত্রদলকে তারেক রহমানের সতর্কবার্তা

post

টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )ঢাকাঃ কোনো ইস্যুতে ক্যাম্পাস যাতে অস্থিতিশীল হয়ে না উঠে এ জন্য সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও সরকারপ্রধান তারেক রহমান।ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের তিনি তলব করে বলেছেন, এই মুহূর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীলতা খুবই জরুরি। কোনো শক্তি যাতে সংঘবদ্ধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে এ জন্য বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সক্রিয় অবস্থান আরও নিশ্চিত করতে হবে।গত শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জরুরি ভিত্তিতে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ডেকে নেন তারেক রহমান। ওই রাতে পৃথকভাবে বৈঠক করেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও।বৈঠক শেষে ছাত্রদলের এক শীর্ষনেতা সময়ের আলোকে বলেন, আলোচনার মূল এজেন্ডা ছিল ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি। হঠাৎ কেন ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল হয়ে উঠল তার ব্যাখা শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের দলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দেশ এখন বৈশ্বিক সংকটে যাচ্ছে। এই সময়ে পরিবেশ শান্ত রাখতে হবে। কোনো ধরনের সংঘাতে যাওয়া যাবে না।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে গিয়ে সরাসরি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে, তাদের সমস্যাগুলো শুনতে। কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন যাতে মাথাচাড়া দিয়ে না ওঠে। ছাত্রদলের ওই নেতা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু সময় উপযোগী পরামর্শ দিয়েছেন।ক্যাম্পাসে যেসব ইস্যুতে দ্রুত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে তার আগাম সমাধানের বের করা। তৃতীয় কোনো শক্তি যাতে ফায়দা হাসিলের সুযোগ না পায়। দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে অনেক ষড়যন্ত্র শক্তি কাজ করছে। সরকারকে শুরুতেই বেকায়দায় ফেলতে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত চলমান আছে।এ জন্য ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদলের জোরালো সাংগঠনিক অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া বৈঠকে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সবশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘাতের সূচনা হয় গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি বিকৃত ছবি (এআই জেনারেটেড) নিয়েই মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় ছাত্রদল থানায় আইনি প্রতিকার চাইতে গেলে একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ছাত্রশিবির প্যানেল থেকে নির্বাচিত) নেতারা সেখানে উপস্থিত হলে তারা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ থেকে পরবর্তী সময়ে হাতাহাতি-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং ডাকসু নেতা এবি যুবায়ের, মোসাদ্দিক আলীসহ কয়েকজন মারধরের শিকার হন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ জনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। যদিও এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে ছাত্রদল, গঠন করেছে তদন্ত কমিটিও।কয়েক দিন আগে চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতিতে ‘ছাত্র’ মুছে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হন।সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসগুলোতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির জন্য ছাত্রশিবিরকে দায়ী করে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সময়ের আলোকে বলেন, আমরা কোনো সংঘাত চাই না। ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ চাই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশে কেউ ব্যাঘাত ঘটালে আমরা প্রতিহত করব। ৫ আগস্টের পর থেকেই ছাত্রদল ক্যাম্পাসগুলোতে সহনশীল ও সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি চর্চা করে আসছে। কিন্তু ছাত্রশিবির ৫ আগস্টের পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে গুপ্ত রাজনীতি ও উসকানিমূলক রাজনীতির চর্চা অব্যাহত রেখেছে।বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ২৮ মার্চ নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে যান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেদিনও বিএনপির তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে দিকনির্দেশনা দেন তিনি।বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে হাহাকার ও পাম্পে তেল পাওয়া না যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী দলগুলো একে সরকারের ‘অব্যবস্থাপনা’ বলে দাবি করলেও সরকার বলছে এটি কৃত্রিম সংকট, যা দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, বিশ্ববাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির সংকট চলছে, যা কেবল বাংলাদেশের নিজস্ব সমস্যা নয়।এ ছাড়া এপ্রিলের শুরুতে বাংলাদেশ হামের ভয়াবহ সংক্রমণের সম্মুখীন হয়, যেখানে প্রতিদিনই শিশু মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং শত শত আক্রান্ত হচ্ছে।বিএনপি মনে করছে, এই ধরনের জরুরি সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকার ব্যর্থ হলে দেশ আরও বড় সংকটে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির সংঘাত এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। বৈঠকে বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner