বাংলাদেশ ১২ এপ্রিল ২০২৬

দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

post

টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )ঢাকাঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।একইসঙ্গে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, জনগণের আস্থা অটুট রাখা এবং কর্মে, সততায়, শপথে ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশকে ভালোবাসার নির্দেশনা প্রদান করেন।আজ রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণ মিলনায়তনে এক দরবারে তিনি এ নির্দেশনা দেন। দরবারে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানিয়েছেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের সম্পত্তি নয়। সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি এবং মর্যাদার প্রতীক। রাষ্ট্রীয় সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনগণের অবিচল আস্থাই হতে হবে সশস্ত্র বাহিনীর পথ চলার প্রধান ভিত্তি। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই আমাদের প্রতিটি সদস্যের একমাত্র এবং পবিত্র দায়িত্ব।এ সময় দেশের জন্য একটি ‘আধুনিক ও সময়োপযোগী’ সশস্ত্র বাহিনী গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যে বাংলাদেশ কারো আধিপত্য মেনে নেবে না, যে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মাত্রা নির্ধারিত হবে পাস্পরিক সন্মান, স্বার্থ এবং সমতার ভিত্তিতে। এক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনে আধুনিক, সুশৃঙ্খল এবং পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী দেশপ্রেমে অনঢ় থাকে তাহলে বাংলাদেশ আরও নিরাপদ থাকবে, আরও মর্যাদাশীল হবে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করে বলতে চাই, সশস্ত্র বাহিনীকে আমরা একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে গঠন করতে বদ্ধপরিকবর।’সশস্ত্র বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের প্রাপ্য সন্মান ও পেশাগত মর্যাদা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে আমাদের সরকার সর্বদা দায়িত্বশীল থাকবে ইনশাআল্লাহ। আমি আপনাদের কাছে প্রত্যাশা করি, আপনারা দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে কেবল বাংলাদেশকে ভালোবাসবেন। প্রয়োজনে নিজের জীবন বিপন্ন করে হলেও সর্বক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দেবেন। আমাদের কাছে সবার আগে বাংলাদেশ।বাংলাদেশ এগোবে দেশপ্রেমের শক্তিতে এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই দরবার থেকে আমি একটি বার্তা দিতে চাই, বাংলাদেশ এগোবে শৃঙ্খলা, সক্ষমতা, আত্ম মর্যাদা এবং দেশ প্রেমের শক্তিতে। আর সেই অগ্রযাত্রায় আমরা আমাদের সহযোদ্ধা হিসেবে আপনাদের গৌরবময় সশস্ত্র বাহিনীকে পাশে পেতে চাই।তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী যে কারণে গঠিত হয়েছে, সকল কাজে আমরা সেই উদ্দেশ্যকে সাথে রাখতে চাই। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ইনশাআল্লাহ বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ, পেশাদার, আধুনিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাহিনী হবে।’সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গনের মিলনায়তনের দরবারে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান।

সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান, শপথ, শৃঙ্খলা এবং কমান্ডের প্রতি আপনাদের অবিচল থাকতে হবে। আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে নিজেদের পেশাগত দক্ষতা ক্রমাগত উন্নত করার কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক যুদ্ধ ক্ষেত্রকে শুধু প্রযুক্তি দিয়ে নয় বরং কৌশল এবং দক্ষতা দিয়ে মোকাবেলা করতে হয়। এর জন্য প্রয়োজনে অন্তত সমন্বয় এবং কৌশলগত চিন্তাশক্তির সংমিশ্রণ থাকতে হবে অবশ্যই। জনগণের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক হবে আস্থা বিশ্বাস ও গভীর দায়িত্ববোধের। এর ভিত্তিতেই গড়ে উঠবে এক অটুট বন্ধন। এই বন্ধনই আপনাদের শক্তি এবং প্রেরণা হিসেবে কাজ কর।তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক সশস্ত্র বাহিনীকে শুধু শেষ ভরসার আশ্রয় হিসেবেই দেখেন না। বরং সাহস, দৃঢ়তা এবং নির্ভরতার প্রতীক হিসেবেও তারা আপনাদেরকে দেখে। আপনাদের প্রতি জনগণের এই অকৃত্রিম আস্থা এবং ভালোবাসাই যেন আপনাদের অন্যতম চালিকাশক্তি ও অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।’ তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা, অব্যবস্থাপনা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে নিজেকে সর্বতভাবে বিরত রাখতে হবে। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে দেশের সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অপচয় রোধ করা আমাদের সবার নৈতিক এবং পেশাগত দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালনকালে বিশেষত শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত অবস্থায় বাংলাদেশের মর্যাদাকে সবার উপরে স্থান দিতে হবে। কারণ আপনি সেখানে শুধুমাত্র একজন সৈনিক নন। বরং বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি হিসেবে।সশস্ত্র বাহিনী একটি রাষ্ট্রের শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পেশাদারিত্বের প্রশ্নে কোন আপস না করে সশস্ত্র বাহিনীকে একটি সুউচ্চ আদর্শিক অবস্থানে থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা রক্ষায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি স্তরে দেশপ্রেমের যে অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে দিয়েছেন তা যেন অক্ষুন্ন থাকে। ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা, ২১ নভেম্বর যৌথ সামরিক পূর্ণতা এবং ৭ নভেম্বর দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের পুনর্জাগরণ, এই তিন অবিভাজ্য ধারা আমাদের সামরিক বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহ্যের মেরুদন্ড।’

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দায়িত্ববোধ এবং দেশের সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত রেখে এই বাহিনীর গৌরবোজ্জল ইতিহাস আগামী প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হিসেবে টিকিয়ে রাখা আমাদের সকলের সম্মিলিত অঙ্গীকার।’প্রধানমন্ত্রী দরবারে তার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের সামনে নতুন বাস্তবতা এসেছে বর্তমান সময় যুদ্ধের ধরন পাল্টেছে, বদলেছে নিরাপত্তার ধরণ। আজ নিরাপত্তা মানে কেবল স্থল সীমান্তে সুরক্ষা নয় এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সমুদ্র, আকাশ সাইবার স্পেস, তথ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তি নির্ভর প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপকূলীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো, সামুদ্রিক সম্পদ এবং আঞ্চলিক কৌশগত প্রতিযোগিতা।’তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীকে শুধুমাত্র আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম সংযোজনে সীমাবদ্ধ না থেকে বরং একই সাথে সবার গুরুত্বের সাথে পেশাগত দক্ষতা, কৌশলগত প্রজ্ঞা ও জ্ঞানভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে। যাতে করে সশস্ত্র বাহিনীর যে কোন সমসাময়িক ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সাক্ষম হয়। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে আমাদের সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধুমাত্র সশস্ত্র বাহিনী নয়, নির্বাচনের আগে ঘোষিত ইশতেহারে দেশের প্রতিটি সেক্টরের সংস্কার এবং উন্নয়ন সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের অর্থ সামাজিক এবং জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়েছে। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই পর্যায়ক্রমে।দরবারে ঢাকায় অবস্থানরত সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ও বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং দেশের অন্যান্য স্থানে অবস্থানরত সদস্যগণ ভিডিও টেলিকনফারেন্স এর মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।দরবারে বক্তব্য দেবার পর সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner