বাংলাদেশ ১৫ মার্চ ২০২৬

আঠারো দিনব্যাপী অমর একুশে বই মেলা শেষ হলো

post

টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )ঢাকাঃ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ১৮ দিনব্যাপী অমর একুশে বইমেলা-২০২৬’ র সমাপনী দিন ছিল আজ রোববার। মেলা জুড়ে ভাঙনের সুর বাজছিল।অমর একুশে বই মেলায় নতুন বই এসেছে ২৩৬টি। মেলা শুরু হয় দুপুর ২টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত।মো. সেলিম রেজা বলেন, বইমেলায় বাংলা একাডেমিসহ সকল প্রতিষ্ঠানের বই ২৫ শতাংশ কমিশনে বিক্রি হয়েছে। বাংলা একাডেমি ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১৭ দিনে বই বিক্রি হয়েছে, ১৭ লাখ ৪ হাজার ৬২৯ টাকা। বইমেলায় অংশগ্রহণকারী সর্বমোট ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪ টি মিডিয়া ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।তিনি বলেন, মেলায় মোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ছিল ৫৭০টি। ২৬৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৭ দিনে তাদের মোট বিক্রির পরিমাণ ৮ কোটি টাকা। সেক্ষেত্রে গড় হিসাবে ৫৭০টি প্রতিষ্ঠানের বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭ কোটি টাকা।অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-পরিচালনা কমিটি সূত্র জানায়, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত মেলার সর্বমোট নতুন বই এসেছে দুই হাজার ৭টি।বিকেল ৩টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।এতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’র সদস্য সচিব ড. মো. সেলিম রেজা। শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান।সমাপনী দিনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেছেন, একটি জাতিকে ধ্বংস করার জন্য তাদের লাইব্রেরি ও বই ধ্বংস করাই যথেষ্ট। সে লক্ষ্যে দেশের জনসাধারণকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদ এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।এছাড়া চব্বিশের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে যারা শাহাদাত বরণ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
মন্ত্রী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সমাজের সৌন্দর্য হলো তার বৈচিত্র্েযর মধ্যে ঐক্য। রাজনীতি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।প্রত্যেক উপজেলায় আধুনিক লাইব্রেরি স্থাপন করা হবে এ কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। জেলা পর্যায়ের মতো উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি সমৃদ্ধ ও সাংস্কৃতিক মডেলে রূপান্তর করার কাজ চলছে।অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম মেলা সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সবার আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ সফল করা সম্ভব হয়েছে। লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের সামষ্টিক উদযাপনে আগামীর বইমেলা নতুনরূপে প্রত্যাশা জাগাবে আমরা এই আশাবাদ ব্যক্ত করতে পারি।মো. মফিদুর রহমান বলেন, এবারের বইমেলা ছিল পূর্বের মেলাগুলোর তুলনায় অধিক পরিচ্ছন্ন। মেলায় প্রকৃত পাঠকদের উপস্থিতি ছিল বেশি। ভবিষ্যতে শিশুদের জন্যে ভালো মানের বই এবং আনন্দদায়ক আয়োজনের ব্যবস্থা বৃদ্ধি করার কথা আমাদেরকে ভাবতে হবে।অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, যে বই পাঠককে মনের ভেতর থেকে জাগিয়ে তোলে, ন্যায়-অন্যায় বোধ জাগ্রত করে এবং রাষ্ট্র গঠনে ও উন্নত চিন্তাচেতনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে সেটিই মানসম্পন্ন বই। একটি জাতির কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ পাঠাভ্যাস দ্বারা নির্ণীত হয়। কাজেই পাঠকদের হাতে ভালো ও মানসম্পন্ন বই তুলে দেওয়ার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।

গুণিজন স্মৃতি পুরস্কার ২০২৬ :

অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি পরিচালিত চিত্তরঞ্জন সাহা, মুনীর চৌধুরী, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই, সরদার জয়েনউদ্দীন এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হয়।চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার : ২০২৫ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কথাপ্রকাশ চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০২৬ প্রদান করা হয়।মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার : ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্য (প্রকাশিত : কালি-কলম আর কাগজের অড রিসার্চ : ফাউন্টেন পেন-আমিন বাবু), প্রথমা প্রকাশন (শিলালিপি : বাংলার আরবি-ফারসি প্রত্ন লেখমালা-মুহম্মদ ইউসুফ সিদ্দিক) এবং দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লি.-কে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২৬ প্রদান করা হয়।রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার : ২০২৫ সালে গুণমান বিচারে সর্বাধিক সংখ্যক শিশুতোষ গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.-কে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০২৬ প্রদান করা হয়।অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে ২০২৪ বা ২০২৫ সালে মেলায় যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রথম অংশগ্রহণ করেছে তাদের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সহজ প্রকাশকে সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার ২০২৬ প্রদান করা হয়।নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১. ক্রিয়েটিভ ঢাকা পাবলিকেশন্স (স্টল নম্বর-৫০৩, ৫০৪), ২. মাত্রা প্রকাশ (স্টল নম্বর-৮৭৩, ৮৭৪) ও ৩. বেঙ্গল বুকস (স্টল নম্বর ৬১৭—৬২১) কে শিল্পী কাইয়ূম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২৬ প্রদান করা হয়।

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner