যানবাহনের ইঞ্জিন আইডলিং থেকে সৃষ্ট বায়ুদূষণ কমাতে লন্ডনজুড়ে চালু হওয়া “ইঞ্জিন অফ, এভরি স্টপ”অভিযানে যুক্ত হলো টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। ক্যামডেন ও হান্সলো বারা কাউন্সিলের সঙ্গে যৌথভাবে এ উদ্যোগ পরিচালনা করা হচ্ছে, যা লন্ডনজুড়ে চালকদের ইঞ্জিন বন্ধ রাখতে উৎসাহিত করছে।
এ অভিযান চালকদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে যে, ইঞ্জিন আইডলিং অর্থাৎ গাড়ি দাঁড়ানো অবস্থায় ইঞ্জিন চালু রাখা তাদের স্বাস্থ্য এবং আশেপাশের মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।
"ইঞ্জিন অফ, এভরি স্টপ" ক্যাম্পেইন হলো আইডলিং অ্যাকশন লন্ডন প্রকল্পের অংশ। যে প্রকল্পে অর্থায়ন করছে লন্ডন মেয়রের এয়ার কোয়ালিটি ফান্ড। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো, অপ্রয়োজনীয় ইঞ্জিন আইডলিং কমানো, যা বায়ুদূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
জনস্বাস্থ্যের ওপর ইঞ্জিন আইডলিংয়ের প্রভাব:
ইঞ্জিন আইডলিং বা গাড়ি দাঁড়ানো অবস্থায় ইঞ্জিন চালু রাখা যানবাহন ক্ষতিকর দূষণ ছড়ায়। যার মধ্যে রয়েছে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড এবং সূক্ষ্ম কণিকা । এসব দূষণ হাঁপানি, হৃদরোগ, ক্রনিক ব্রংকাইটিস ও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। শিশু, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারী এবং যাদের আগে থেকেই শ্বাসযন্ত্রের অসুবিধা আছে তারা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে থাকে।
যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে বাইরের বায়ুদূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং লন্ডনের বেশিরভাগ এলাকাই এখন নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড এবং সূক্ষ্ম কণিকার আইনি সীমা পূরণ করছে। যদিও গবেষণা বলছে, বায়ুদূষণের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই।
রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ান্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন "ব্রেথ অব ফ্রেশ এয়ার: রেসপন্ডিং টু দ্যা হেলথ চ্যালেন্জ অব মর্ডান এয়ার পলোশন" -এ উঠে এসেছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৩০ হাজার মৃত্যুর জন্য বায়ুদূষণ দায়ী থাকবে, আর লন্ডনে দীর্ঘমেয়াদি দূষণের কারণে প্রতি বছর ৪ হাজারের বেশি মানুষ অকালমৃত্যুর শিকার হন।
প্রতিবেদনটি আরও জানায়, বায়ুদূষণের কারণে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক অর্থনৈতিক ক্ষতি ২৭ থেকে ৫০ বিলিয়ন পাউন্ড। যার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়, উৎপাদনশীলতার ক্ষতি এবং জীবনযাত্রার মানের অবনতি, এমনকি ডিমেনশিয়ার মতো অবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রভাবও অন্তর্ভুক্ত।
এ জন্য জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ব্যয় কমানোর জন্য সব উৎস থেকে দূষণ কমানো অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলের এনভায়রনমেন্ট এন্ড ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি বিষয়ক ক্যাবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর শফি আহমেদ বলেন, “বায়ুদূষণ এখনও আমাদের বারার অন্যতম গুরুতর জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ।বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক বাসিন্দা এবং যাদের আগে থেকেই অসুস্থতা রয়েছে তাদের জন্য এটি আরও বিপজ্জনক।
“গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ইঞ্জিন বন্ধ রাখা একটি সহজ কাজ, যা তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ কারণেই আমরা "ইঞ্জিন অফ, এভরি স্টপ" প্রচারাভিযানে অংশ নিতে ও সমর্থন জানাতে পেরে আমরা গর্বিত। আমরা টাওয়ার হ্যামলেটসের সব চালকদের উৎসাহিত করতে চাই যাতে তারা জনস্বাস্থ্য রক্ষা, বাতাসের গুণগতমান উন্নত করা এবং জলবায়ুর জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় তাদের ভূমিকা রাখেন।”
একটি সহজ কাজ, কিন্তু তাৎক্ষণিক প্রভাব:
"ইঞ্জিন অফ, এভরি স্টপ" এর মাধ্যমে চালক, যাত্রী ও আশপাশের মানুষের ক্ষতিকর ধোঁয়ার সংস্পর্শ কমে। এ ক্যাম্পেইনটি লন্ডনজুড়ে কয়েক মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে এবং লন্ডনের আইডলিং প্রবণ এলাকা ও যানবাহন সম্পর্কিত দূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য আইডলিং অ্যাকশন লন্ডন প্রকল্পটি শুরু হয় গত ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে। চলবে আগামী ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত। এটি লন্ডনের মেয়রের এয়ার কোয়ালিটি ফান্ড দ্বারা অর্থায়িত। লন্ডনের ২১টি লোকাল অথরিটির পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি যৌথভাবে পরিচালনা করে ক্যামডেন এবং হান্সলো বারা কাউন্সিল।
এই জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনটি জানুয়ারি ২০২৫ এ চালু হয়েছে। ইতোমধ্যেই রেডিও, অনলাইন ও আউট–অব–হোম বিজ্ঞাপন ৬০ মিলিয়ন এর বেশি মানুষ দেখেছেন। অভিযানের একটি নতুন শীতকালীন ধাপ নভেম্বর ২০২৫–এ চালু হবে।








