সিলেট ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিলেট: অভিযোগের তীর বিএনপি গুন্ডাদের দিকে

আইন কি কেবল প্রভাবশালীদের জন্য?

post

মন্তব্য প্রতিবেদন : লন্ডন প্রবাসী আবদাল মিয়ার পরিবারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলমান নির্যাতনের অভিযোগ আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য এক গভীর লজ্জা ও অশনিসংকেত। সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার পাঁচপাড়া গ্রামের এই পরিবারটি প্রথমে স্থানীয় আওয়ামী পন্থী সন্ত্রাসীদের হাতে নিপীড়িত হয়েছে বলে অভিযোগ। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও তাদের দুর্ভোগ কমেনি—এখন তারা অভিযোগ করছেন বিএনপি নামধারী গুন্ডাদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে। অর্থাৎ দল বদলেছে, কিন্তু নির্যাতনের চরিত্র বদলায়নি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—আইনের আশ্রয় নিয়েও তারা প্রতিকার পাচ্ছেন না। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে: আইন কি কেবল প্রভাবশালীদের জন্য? সাধারণ মানুষ কি শুধু অভিযোগ করেই যাবেন, আর প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে?অভিযোগ রয়েছে, এই নির্যাতনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিলেটের সেজন আহমেদ ও আক্তারুজ্জামান হেনান। যদি এ অভিযোগ সত্য হয়, তবে এটি কেবল একটি পরিবারের ওপর হামলা নয়—এটি রাষ্ট্রের আইনের শাসনের ওপর প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ। আর যদি অভিযোগ মিথ্যা হয়, তবে সেটিও দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হোক। নীরবতা কোনো সমাধান নয় বরং নীরবতা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে আবদাল মিয়া ও তার ফুফু পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন। প্রবাসের মাটিতে দাঁড়িয়ে নিজ দেশে পরিবারের নিরাপত্তা ভিক্ষা —এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কী হতে পারে? তারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এখন দেখার বিষয়, রাষ্ট্র তাদের আহ্বানে সাড়া দেয় কি না।

বাংলাদেশের সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে সমান অধিকার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব বা ক্ষমতা কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে পারে না। যদি একটি পরিবার বছরের পর বছর দলীয় পরিচয়ের কারণে নির্যাতিত হয় এবং প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তবে তা শুধু একটি পরিবারের নয়—সমগ্র রাষ্ট্রের ব্যর্থতা।

আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে গণতন্ত্র ব্যাহত  হবে। অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হোক। ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া হোক। দোষী যেই হোক, তার রাজনৈতিক পরিচয় নয়—তার অপরাধই যেন বিচার নির্ধারণ করে।

রাষ্ট্র যদি নির্যাতিতের পাশে না দাঁড়ায়, তবে রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। এখন সময় কথার নয়, কার্যকর পদক্ষেপের। আইনকে শক্তিশালী প্রমাণ করতে হবে—নইলে মানুষ আইনের ওপর আস্থা হারাবে, আর সেটিই হবে বর্তমান বিএনপি সরকারের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়।

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner