আনসার আহমেদ উল্লাহ :গত শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, হাজারো মানুষ মধ্য লন্ডনের রাস্তায় নেমে আসে ২০২৬ সালের প্রথম জাতীয় প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইন (পিএসসি) মিছিলে অংশ নিতে। বিক্ষোভকারীরা গাজায় ইসরায়েলের চলমান হামলাকে “গণহত্যা” হিসেবে উল্লেখ করে এর অবসান এবং ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
‘গণহত্যা বন্ধ করো’, ‘গাজা ছাড়ো’ ও ‘ইসরাইলকে অস্ত্র দেয়া বন্ধ করো’ শিরোনামে এই কর্মসূচিটি দুপুর ১২টায় রাসেল স্কয়ার থেকে শুরু হয়। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিক্ষোভকারীরা এতে অংশ নেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ফিলিস্তিনি পতাকা বহন করেন এবং “ফিলিস্তিনকে স্বাধীন করো ” লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
আয়োজকদের মতে, গাজায় যুদ্ধ আরও এক বছরে প্রবেশ করায় এবং ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ চলতে থাকায়, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক ও সামরিক সমর্থনের বিরুদ্ধে সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখাই এই বিক্ষোভের মূল লক্ষ্য।
পিএসসির এক মুখপাত্র বলেন, “ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গণহত্যা এখনো শেষ হয়নি। একটি রাষ্ট্র যখন গণহারে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, তখন যুক্তরাজ্য তার অস্ত্র সরবরাহ ও সমর্থন চালিয়ে যেতে পারে না। এই মিছিল প্রমাণ করে যে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি এবং জনরোষ এখনো প্রবল।”
মিছিলটি মধ্য লন্ডনের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে অগ্রসর হয়ে একটি সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়, যেখানে অধিকারকর্মী, ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ ও আন্দোলনকারীরা বক্তব্য রাখেন। তারা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ এবং ইসরায়েলের কাছে যুক্তরাজ্যের অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের দাবি জানান।
মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে লন্ডনে ধারাবাহিকভাবে বড় আকারের ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এর ফলে যুক্তরাজ্যের রাজধানী বিশ্বব্যাপী ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী মাসগুলোতে আরও কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।








